প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫২ এএম (ভিজিট : ৪৪)

X
মার্কিন ক্যাপিটল ভবন
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী নিয়ে আবারও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্যের পর কিছু ডেমোক্র্যাট নেতা তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছেন।
বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে দেওয়া কঠোর ও বিতর্কিত হুমকির পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে বলে শনিবার (১১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
১৯৬৭ সালে অনুমোদিত ২৫তম সংশোধনী মূলত প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ শূন্য হলে কিংবা প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রণয়ন করা হয়। জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ডের পর এই সংশোধনীর প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।
এই সংশোধনীর ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যদি মনে করেন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তাহলে তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে তা অনুমোদিত হতে হয়।
এখন পর্যন্ত ২৫তম সংশোধনীর ৩ নম্বর ধারা কয়েকবার ব্যবহার হলেও ৪ নম্বর ধারা কখনোই কার্যকর হয়নি। ৩ নম্বর ধারা মূলত প্রেসিডেন্টের সাময়িক অসুস্থতার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন ২০২১ সালে জো বাইডেনের চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময়।
অতীতে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার পর ডেমোক্র্যাটরা তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে এই সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছিল, তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় এই সংশোধনী ব্যবহার করে ট্রাম্পকে অপসারণ করা অত্যন্ত কঠিন। এর জন্য ব্যাপক রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন, যা এখনো অনিশ্চিত।
ডেমোক্র্যাটদের জন্য বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মনে করা হচ্ছে, কারণ তারা অতীতে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ট্রাম্পকে দুইবার অপসারণের চেষ্টা করেও সফল হয়নি। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তারা বরং অর্থনীতি, চাকরি ও মূল্যস্ফীতির মতো ইস্যুতে মনোযোগ দিচ্ছে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান নেতারা ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করছেন।