প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম (ভিজিট : ৬২)

X
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ১২টি অরক্ষিত রেলক্রসিং রয়েছে। এসব রেলক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন পথচারী, যানবাহনসহ গরু-ছাগল পারাপার হচ্ছে। সতর্ক না হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপচাঁচিয়া উপজেলায় আলতাফনগর ও তালোড়া এই দুটি রেলস্টেশন রয়েছে। এ দুটি রেলস্টেশনের আওতায় এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার সীমানায় মোট ১২টি অরক্ষিত রেলক্রসিং রয়েছে। এসব রেলক্রসিং দিয়ে পথচারী, শিক্ষার্থী, অটোচার্জার ভ্যান, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ভটভটি নিয়মিতভাবে পারাপার হয়।
১২টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ৬টি রেলক্রসিংয়ের দুই পাশে রাস্তা যানবাহন চলাচলের জন্য বেশ উপযোগী হওয়ায় এ পথ দিয়ে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি ট্রাকও চলাচল করে। কিন্তু গেটম্যান ও গেট ব্যারিয়ার না থাকায় এসব রেলক্রসিং সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে।
গত ২৭ মার্চ উপজেলার দেবখণ্ড গ্রামের প্রবেশপথের অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে একটি সিএনজি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অল্পের জন্য রক্ষা পান চালক। এর আগেও দেবখণ্ড কারিগরপাড়ার প্রবেশপথের রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে দুর্ঘটনায় কবলিত হয় একটি ট্রাক। এরপরও এসব রেলক্রসিং দিয়ে অবাধে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল অব্যাহত রয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা বাড়ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এসব রেলক্রসিংয়ে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা এবং মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মজিবর রহমান জানান, রেললাইনের উত্তর পাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অনেক গ্রাম রয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষ এসব রেলক্রসিং দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু গেটম্যান ও গেট ব্যারিয়ার না থাকায় দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে। তারা এখানে গেটম্যান নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উপজেলার দেবখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কমান্ডার মনোয়ার তালুকদার বলেন, দেবখণ্ড একটি বৃহৎ গ্রাম। এ রেলক্রসিং দিয়ে গ্রামের লোকজন, যানবাহন, শিক্ষার্থীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু গেটম্যানবিহীন এ রেলক্রসিংটি সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় এখানে দ্রুত গেটম্যান নিয়োগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালোড়া স্টেশন মাস্টার হযরত আলী জানান, দুপচাঁচিয়া উপজেলার সীমানায় তালোড়া ও আলতাফনগর রেলস্টেশনের আওতাধীন দুটি বৈধ রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান ও গেট ব্যারিয়ার রয়েছে। এসব রেলক্রসিংয়ের দায়িত্ব বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে। বাকি অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে জনসাধারণকে নিজ দায়িত্বে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে। এসব অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দায়ভার গ্রহণ করবে না।