শুক্রবার সন্ধ্যায় নবজাতক ও মা সবাই বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। কৃষক কাজল মিয়া তাঁর সন্তানদের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ এপ্রিল সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে পাঁচ সন্তানের জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এনআইসিইউ বিভাগের চিকিৎসকদের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী নবজাতকদের গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত নবজাতকদের কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ এলাকার মডিউল কমিউনিটি ক্লিনিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের যত্ন অব্যাহত রয়েছে।
খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মডিউল কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, তাঁর হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখে নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। একসঙ্গে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা কিছুটা জটিল ছিল। পরে স্বাভাবিক হলে পরিবারের সদস্যরা তাদের বাড়িতে নিয়ে যান।
একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্মে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বাবা কাজল মিয়া বলেন, তাঁর জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দের। তিনি কৃষিকাজ করেন, স্ত্রী গৃহিণী। স্বল্প আয়ে এখন ছয় সন্তানকে লালনপালন করে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘একসঙ্গে পাঁচটা বাচ্চার বাবা হয়েছি। আলহামদুল্লিাহ তারা সবাই ভালো আছে। তারা সুস্থ থাকুক, আল্লাহর কাছে এটাই চাই। সবার কাছে দোয়া চাই। তাদের নাম এখনো রাখা হয়নি। শিগগিরই নাম রাখা হবে।’
মডিউল কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক নারায়ণ সাহা বলেন, একসঙ্গে পাঁচ নবজাতক পেয়ে ওই পরিবারের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ দেখা গেছে। এর আগে সর্বোচ্চ তিনটি যমজ শিশুর জন্ম হতে দেখেছেন তিনি। তবে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম এই প্রথম দেখলেন তাঁরা। তিনি বলেন, ক্লিনিকে অবস্থানকালে নবজাতকদের সার্বক্ষণিক খোঁজ নিয়েছেন খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও মডিউল কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক রুহুল আমিন।
উল্লেখ্য, কাজল মিয়া ও মাসুমা আক্তার দম্পতির আগে ৯ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্মে এলাকায় আনন্দ ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।