বৈশাখী মেলায় বিক্রি, বাকি বছর বিষাদ: টিকে থাকার লড়াইয়ে ভালুকার মৃৎশিল্পীরা

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ফিচার

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ভালুকার কুমারপাড়ায় মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে আধুনিক পণ্যের দাপটে সংকটে পড়েছে শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প।

2026-04-11T14:21:57+00:00
2026-04-11T14:21:57+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
বৈশাখী মেলায় বিক্রি, বাকি বছর বিষাদ: টিকে থাকার লড়াইয়ে ভালুকার মৃৎশিল্পীরা
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২১ পিএম   (ভিজিট : ৪৯২)
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ভালুকার কুমারপাড়া
X

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ভালুকার কুমারপাড়া

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে ভালুকার কুমারপাড়া। মাটির ঘ্রাণে ভরে উঠেছে বিরুনীয়া ইউনিয়নের চান্দরাটিসহ আশপাশের গ্রামগুলো। কোথাও মাটি কাটা, কোথাও চাক ঘোরানো, আবার কোথাও রোদে শুকানো বা আগুনে পোড়ানোর ব্যস্ততা সব মিলিয়ে এখন উৎসবের আমেজ।

হাঁড়ি-পাতিল, দইয়ের পাতিল, পিঠার খোলা, মাটির ব্যাংক আর রঙিন টেপা পুতুল সবই তৈরি হচ্ছে দম ফেলার ফুরসত ছাড়া। বৈশাখী মেলাই যেন তাদের বছরের একমাত্র ভরসা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শতাধিক পরিবার এখনও ধরে রেখেছে প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো এই পেশা। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্লাস্টিক, মেলামাইন ও স্টিলের পণ্যের ভিড়ে মাটির জিনিস এখন অনেকটাই কোণঠাসা।

স্থানীয় নারী মৃৎশিল্পীরা জানান, ছোটবেলা থেকে মাটির কাজ তাদের জীবনের অংশ। বাবার বাড়ি থেকে শুরু করে শ্বশুরবাড়ি একই পেশা ধরে রেখেছেন তারা। কিন্তু সময় বদলেছে, বাজার বদলেছে। প্লাস্টিকের আগ্রাসনে আগের মতো আর চাহিদা নেই।

দুই দশকের অভিজ্ঞ মৃৎশিল্পী মনী চন্দ্র পাল বলেন, “আগে দিনরাত কাজ করতাম। এখন মেলা ছাড়া তেমন কাজই থাকে না। ছেলে-মেয়েরাও এই পেশায় আসতে চায় না। কষ্ট বেশি, আয় কম।”

তিনি আরও জানান, আগের মতো হাতে চাক ঘুরিয়ে কাজ না করে এখন কিছুটা আধুনিক পদ্ধতিও শিখেছেন। তবে তাতেও ভাগ্যের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।

ভালুকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুবেল মন্ডল জানান, একসময় এই সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ কর্মসূচি থাকলেও বর্তমানে তা চালু নেই। ভবিষ্যতে সরকারি নির্দেশনা এলে পুনরায় উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে মাটির হাঁড়ি-পাতিল ছিল অপরিহার্য। আজ সেই ঐতিহ্যই বিলুপ্তির পথে। পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ ঋণ ও আধুনিক বিপণনের অভাবে ধুঁকছে এই প্রাচীন শিল্প।

এখন প্রশ্ন একটাই বৈশাখের এই সাময়িক ব্যস্ততা কি বাঁচাতে পারবে ভালুকার কুমারপাড়ার শতবর্ষী ঐতিহ্য? নাকি আগামী প্রজন্ম শুধুই গল্পে শুনবে “মাটির শিল্পের” সেই সোনালি দিনগুলোর কথা?




  বিষয়:   ভালুকা  কুমারপাড়া  মৃৎশিল্প  পহেলা বৈশাখ  মাটির পণ্য  টেপা পুতুল  গ্রামীণ শিল্প  বাংলাদেশ ঐতিহ্য 



Loading...
Loading...


ফিচার এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy