প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২২ পিএম (ভিজিট : ৩৩)

X
মান্দায় জমিসংক্রান্ত বিরোধ: রাতের আঁধারে কৃষকের পাটগাছ কর্তন
নওগাঁর মান্দায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে চরম শত্রুতার শিকার হয়েছে কৃষকের ‘সোনালী আঁশ’ পাট। উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর বিনয় বাজার এলাকায় রাতের আঁধারে এক কৃষকের ৪ শতক জমির পাটগাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী গোবিন্দপুর গ্রামের রাম রতন সরদারের ছেলে বীরেন্দ্রনাথ সরদার জানান, পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৭৩৪ নম্বর খতিয়ানের ৫৬৭ দাগের ৪৭ শতক জমির একটি অংশ তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিপক্ষ চক রাজাপুর গ্রামের মৃত গশি’র স্ত্রী ছায়েরা বেগম এবং তার ছেলে সায়েদ আলী গং ওই সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায় এবং সেখানে মাটি ভরাট শুরু করে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন মন্ডলের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে মান্দা থানায় জানিয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে আদালতে ১০৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন বীরেন্দ্রনাথ। বর্তমানে মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে।
বীরেন্দ্রনাথের দাবি, একই খতিয়ানের ৫৮১ ও ৫৮৬ দাগে তার কাকা সুমন্তর স্ত্রী ৩৩ শতক জমি বিক্রি করেন। পরবর্তীতে ওই জমি পুনরায় প্রতিপক্ষের শশী তার স্ত্রীকে লিখে দেন এবং তার স্ত্রী খিরদা বিবি সেই জমি দুই কন্যা রূপভান ও সুরভানকে লিখে দেন। কিন্তু অবশিষ্ট ৩ শতক জমি নির্দিষ্ট দাগে না নিয়ে প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক বীরেন্দ্রনাথের ৫৬৭ দাগে দখল করতে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে ওই জমির ৪ শতক এলাকার পাটগাছ কেটে নষ্ট করে দেয় তারা।
মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এবং স্থানীয় আপস-মীমাংসার তোয়াক্কা না করে এভাবে ফসল নষ্ট করার ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তারা। অপরদিকে শনিবার সকালে সরেজমিন গিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মতিন মন্ডল বলেন, ‘উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হয়েছিল। বীরেন্দ্রনাথের জমিতে প্রতিপক্ষের লোকজন মাটি ভরাট করতে চাইলে আমি তাদের নিষেধ করি এবং কাগজপত্র দেখাতে বলি। কিন্তু তারা কর্ণপাত করেনি। ফসলের ক্ষতি করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।’
এদিকে হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল কেটে ফেলায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক বীরেন্দ্রনাথ। তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেছেন।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও ফসল নষ্টের বিষয়টি এখন পর্যন্ত লিখিতভাবে জানানো হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।’