পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংলাপে অংশ নিতে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল।
আজ শনিবার (১১এপ্রিল) অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠককে ঘিরে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে এসেছে, যা আলোচনার গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রথমত, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের সেতুবন্ধন তৈরিতে সক্রিয় রয়েছে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তাদের কৌশলগত যোগাযোগ রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের কূটনৈতিক সক্ষমতার প্রশংসা করেছেন।
দ্বিতীয়ত, ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে। যদিও প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এটি সংলাপের মূল কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তৃতীয়ত, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির উল্লেখ করা ১৫ দফা প্রস্তাবও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাব সংঘাত নিরসনে সহায়ক হতে পারে। তবে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
চতুর্থত, লেবাননের পরিস্থিতি এবং সেখানে ইসরায়েলের চলমান হামলা আলোচনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, লেবাননের ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি প্রযোজ্য নয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৩০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে লেবানন আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করছে।
শুক্রবার লেবানন জানিয়েছে, তারা আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করবে।