প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৩ পিএম (ভিজিট : ৮)

X
সংগৃহীত ছবি
জাপানে আবাসন খরচ ও বাড়িভাড়া হু হু করে বাড়তে থাকায় ভুতুড়ে বা দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাড়ি ‘জিকো বুক্কেন’ কেনার প্রতি অভূতপূর্ব হিড়িক পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও আবাসন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। সাধারণ মানুষ যেসব বাড়িতে পা রাখতেও ভয় পান, কম খরচে থাকার আশায় কিংবা লাভজনক বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে এখন সেগুলোই হয়ে উঠছে জাপানিদের প্রথম পছন্দ।
জাপানি সংস্কৃতিতে যেসব বাড়িতে আগের বাসিন্দার নির্মম হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা বা একাকী মৃত্যুর (‘কোদোকুশি’) মতো অঘটন ঘটে থাকে, সেগুলোকে ‘জিকো বুক্কেন’ বা দুর্ঘটনাগ্রস্ত সম্পদ বলা হয়। সাধারণত বাজারমূল্যের চেয়ে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে মেলে এসব বাড়ি।
সম্প্রতি বাজার বিশ্লেষণের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য টোকিওসহ প্রধান শহরগুলোতে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া টানা ২২ মাস ধরে রেকর্ড হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দামের হিসাব বিবেচনা করে বহু তরুণ ও সাধারণ পরিবার এখন বাস্তবসম্মত পথ হিসেবে এই ভূতুড়ে বাড়িগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।
একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের নজরও এখন জিকো বুক্কেনের দিকে। জাপানি আইন অনুযায়ী, কোনো বাড়িতে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর তিন বছর পর বাড়ির মালিক বা বিক্রেতার তথ্যটি নতুন ক্রেতার কাছে প্রকাশ করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না। ফলে কম দামে এসব পরিত্যক্ত বা অঘটন ঘটা সম্পত্তি কিনে কয়েক বছর পর তা চড়া বাজারমূল্যে বিক্রি করে মোটা অংকের মুনাফা লুটছেন ক্রেতা-বিনিয়োগকারীরা।
দেশটিতে দিন দিন জিকো বুক্কেনের চাহিদা এতটাই বাড়ছে যে এসব বাড়ি কেনাবেচা ও তথ্য জোগাতে রীতিমতো গড়ে উঠেছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আবার বাড়িগুলো অলৌকিক প্রভাবমুক্ত বা ‘ভূত মুক্ত’ কি না—তা থার্মাল ক্যামেরা দিয়ে পরীক্ষা করে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্রও দিচ্ছে। ভূতুড়ে তকমা থাকলেও সস্তায় থাকার সুযোগ এবং লাভজনক পুনর্বিক্রয়ের সম্ভাবনাই মূলত জাপানে এই ভৌতিক বাড়ি কেনার ধুম বাড়িয়ে দিয়েছে।