প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম আপডেট: ১৩.০৪.২০২৬ ১০:৫৫ এএম (ভিজিট : ৮৫)

X
ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের মার্কিন ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের শুরুতেই লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-সংঘাত শুরুর আগে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন সময়ে তা ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে পাকিস্তানে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবরের মধ্যে গত শুক্রবার দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ ডলারে নেমে এসেছিল।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার আবারও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় ফিরে গেছে। এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়, তাহলে বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ শুরু করবে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও যুদ্ধ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান না হওয়া এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও জ্বালানির দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে। একই সঙ্গে ইরানে সম্ভাব্য হামলার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও তিনি মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা ভারসাম্য ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।