নববর্ষকে কেন্দ্র করে পার্বত্যাঞ্চলে উৎসবের আমেজ, বিজুতে ঐতিহ্যবাহী ‘পাজন’

বুলেটিন ডেস্ক

ফিচার

নববর্ষ উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উৎসব ও ঐতিহ্যবাহী পাজন খাবার নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।

2026-04-13T13:27:47+00:00
2026-04-13T13:27:47+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
নববর্ষকে কেন্দ্র করে পার্বত্যাঞ্চলে উৎসবের আমেজ, বিজুতে ঐতিহ্যবাহী ‘পাজন’
বুলেটিন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৭ পিএম   (ভিজিট : ৭১)
নববর্ষকে কেন্দ্র করে পার্বত্যাঞ্চলে উৎসবের আমেজ, বিজুতে ঐতিহ্যবাহী ‘পাজন’
X

নববর্ষকে কেন্দ্র করে পার্বত্যাঞ্চলে উৎসবের আমেজ, বিজুতে ঐতিহ্যবাহী ‘পাজন’

বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে পার্বত্যাঞ্চলের সর্বত্র এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষায় উৎসব উদযাপন করছেন। চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসুক, তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু এবং বম ও ম্রো সম্প্রদায়ের চাংক্রান উৎসব এখন পাহাড়জুড়ে রঙ ছড়াচ্ছে।

প্রতি বছর এপ্রিল এলেই রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে শুরু হয় এই উৎসব। নাচ-গান, আচার-অনুষ্ঠান আর সামাজিক মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন পাহাড়ের মানুষ। জাতিগত ও ভাষাগত ভিন্নতার কারণে এসব উৎসব ভিন্ন ভিন্ন নামে পালিত হলেও এর মূল আবেদন আনন্দ ও ঐতিহ্যের সম্মিলন। 

উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ে তৈরি হয় নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও অপরিহার্য খাবার হলো ‘পাজন’। এই খাবার ছাড়া পাহাড়িদের উৎসব যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। অতিথি আপ্যায়নের শুরুতেই পরিবেশন করা হয় পাজন।

পাহাড়ি লোককথা অনুযায়ী, একসময় পাজন রান্নায় প্রায় ১০৭ ধরনের সবজি ব্যবহার করা হতো। তবে বর্তমানে সবজি সহজলভ্য না হওয়ায় ২০ থেকে ৩০ ধরনের সবজি দিয়ে পাজন রান্না করা হয়। এতে কাঁচা কাঁঠাল, সজনে, জুমের আলু, মিষ্টি কুমড়া, শিমফুল, গাজর, শসা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন পাহাড়ি সবজির মিশ্রণ থাকে। অনেক ক্ষেত্রে শুঁটকি মাছও ব্যবহার করা হয়, যা এর স্বাদকে করে তোলে ভিন্নধর্মী।

পাজন রান্নার ইতিহাস কয়েক শ বছরের পুরোনো। ধারণা করা হয়, ‘পাজন’ শব্দটি বাংলা ‘পাঁচন’ শব্দ থেকে এসেছে, যদিও রন্ধনপ্রণালী ও স্বাদে রয়েছে পার্থক্য। পাহাড়িদের বিশ্বাস, পাজন খেলে শরীর ভালো থাকে এবং নানা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এমনকি একদিনে সাতটি পরিবারের পাজন খেলে সারাবছর সুস্থ থাকা যায় এমন বিশ্বাসও প্রচলিত রয়েছে।

শহরের কলেজ গেট এলাকার বাসিন্দা মাসানু রোয়াজা বলেন, “আগে ১০৭ প্রকার সবজি দিয়ে পাজন রান্না করা হতো। এখনও অতিথিদের এই খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।”

একই এলাকার বাসিন্দা পুলিন চাকমা বলেন, “পাজন শুধু খাবার নয়, এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক ওষুধ।” পাহাড়ি সম্প্রদায়ের কাছে পাজন শুধু একটি খাবার নয়, বরং এটি তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।







  বিষয়:   পার্বত্য চট্টগ্রাম  পহেলা বৈশাখ  চাকমা বিজু  মারমা সাংগ্রাই  পাজন খাবার  পাহাড়ি সংস্কৃতি  বাংলাদেশ উৎসব 



Loading...
Loading...


ফিচার এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy