প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৮ পিএম (ভিজিট : ২৬০)

X
অনুষ্ঠানটির নতুন নাম ‘নববর্ষ প্রদর্শনী উৎসব ১৪৩৩’
সমালোচনার মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঘোষিত ‘বৈশাখ-ই আকবর’ কর্মসূচির নাম পরিবর্তন করেছে রাবি শাখা ছাত্রশিবির। অনুষ্ঠানটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘নববর্ষ প্রদর্শনী উৎসব ১৪৩৩’। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে মুছে ফেলা হয়েছে আগের ঘোষণাসংক্রান্ত পোস্টও।
গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির শুরুতে বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে শহীদ মিনার এলাকায় ‘বৈশাখ-ই আকবর’ শিরোনামে একটি দিনব্যাপী আয়োজনের ঘোষণা দেয়।
ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানানো হয়, গ্রামীণ ঐতিহ্য, নববর্ষের ইতিহাস এবং মুসলিম সংস্কৃতির উপাদান নিয়ে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। তবে পোস্টে সরাসরি ‘পহেলা বৈশাখ’ শব্দটি ব্যবহার না করে লেখা হয় ‘১৪ এপ্রিল ২০২৬’।
এ বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি শেখ নূর উদ্দিন আবীর তার ফেসবুক টাইমলাইনে লেখেন, মোঘল সম্রাট আকবর ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন মৌলিক নীতিকে পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে ‘দীন-ই-ইলাহী’ নামে একটি অদ্ভুত ধর্মের প্রচলন করেছিলেন। দীন-ই-ইলাহীর কার্যক্রমগুলো ছিল সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী ও কুফরি।
তিনি আরও লিখেন, সেই সম্রাট আকবরকে ইসলামী সুফি বানিয়ে, তার কার্যক্রমকে মুসলিমদের ঐতিহ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির পহেলা বৈশাখের ইসলামি সংস্করণ ‘বৈশাখ-ই আকবর’ নামের প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। বেশ! ছাত্রশিবির আজকাল ইসলামবিরোধী দীন-ই-ইলাহীকে সমর্থন করছে।
সমালোচনার মুখে আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ করেই পরিবর্তন আসে ছাত্রশিবিরের ঘোষণায়। নতুন পোস্টে জানানো হয়, আয়োজনটির নাম রাখা হয়েছে ‘নববর্ষ প্রদর্শনী উৎসব ১৪৩৩’। এর পাশাপাশি আগের পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
নাম পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে ফেসবুক পোস্টে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আবহমান গ্রাম-বাংলার সংস্কৃতির নানান উপাদান নিয়ে প্রদর্শনী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির থেকে। প্রদর্শনীর টাইটেল নিয়ে আমাদের সুধী-শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে বিতর্ক ও আপত্তি থাকার কারণে উক্ত টাইটেলটি পরিবর্তন করা হয়েছে। ইসলামের মৌলিক বিষয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সম্রাট আকবর এবং তার প্রবর্তিত ‘দ্বীন-ই-ইলাহি’ কে প্রমোট করার উদ্দেশ্যে আমাদের এ আয়োজন ছিল না। আমরা ইতিহাসের মূলে গিয়ে এর সুলুক সন্ধান করতে চেয়েছি। আপনাদের সবার সমালোচনা আমরা গ্রহণ করে নিয়েছি।
ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ। আপনাদের সমালোচনাগুলো আমাদেরকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করবে। আগামীকালের প্রদর্শনীতে এসে আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও মুসলিম ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাই।