প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম (ভিজিট : ২০২)

X
সংগৃহীত ছবি
নারীদের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল করা এক দুর্ধর্ষ সিরিয়াল রেপিস্টকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) গত ২ মাসে অন্তত ১৩ জন নারীকে তার লালসার শিকার বানিয়েছে। তার প্রতারণার কৌশল ছিল অত্যন্ত ধূর্ত এবং অভিনব।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, অভিযুক্ত রাব্বি প্রথমে অনলাইন বা বিভিন্ন মাধ্যমে নারীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলত। এরপর বলত, তোমার বয়ফ্রেন্ড কিছু গিফট পাঠিয়েছে। তুমি যদি তোমার ফুপু বা চাচার বাসার কাছে আসো, তবে আমি পৌঁছে দেব। মেয়েরা যখন উপহার নিতে নির্ধারিত স্থানে আসত, তখন রাব্বি ফোন করে নিজেকে অসুস্থ দাবি করত। সে বলত, আমি আসতে পারছি না, আমার ফুপাতো বা চাচাতো ভাইকে পাঠাচ্ছি।" মূলত সেই 'ভাই' সেজেই সে নিজে ভিকটিমদের সামনে হাজির হতো।
তিনি আরও বলেন, সাক্ষাতের জন্য সে সাধারণত মেট্রো স্টেশন বা সচিবালয় মেট্রো স্টেশনের নিচের এলাকা ব্যবহার করত। সেখান থেকে কখনো পথ দেখানোর নাম করে, আবার কখনো কৌশলে সিএনজিতে উঠে ফুপাতো ভাই পরিচয়ে ভিকটিমদের যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজ সংলগ্ন এলাকায় দুটি গোপন আস্তানায় নিয়ে যেত।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দনিয়া এলাকার ওই বাসাগুলোতে নিয়ে মেয়েদের জোরপূর্বক ধর্ষণ করত রাব্বি। এরপর তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিত। ফোন বিক্রির আগে সে ভিকটিমদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিত। এই অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করেই সে আবার নতুন কোনো নারীকে টার্গেট করত।
তিনি আরও বলেন, গত ৯ মার্চ প্রথম এক ভিকটিমের জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। এ পর্যন্ত ১০ জন ভিকটিমকে শনাক্ত করা গেলেও জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বি ১৩ জন নারীকে একই কায়দায় ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই কদমতলী থানায় মামলা ছিল। এমনকি নিজের স্ত্রীকেও সে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিকটিমদের অধিকাংশই মিরপুর এলাকার বাসিন্দা। মিরপুর মডেল থানা পুলিশ এই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছে।
ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, আমরা আসামিকে আইনের আওতায় এনেছি। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ৩টি নিয়মিত মামলা এবং বেশ কিছু জিডি রয়েছে। অনেকে সামাজিক সম্মানের ভয়ে মুখ খুলছেন না। আমরা আশঙ্কা করছি ভিকটিমের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
পুলিশ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে রাব্বির সঙ্গে আর কোনো সহযোগী বা বড় কোনো চক্র জড়িত আছে কি না।