
ফাইল ছবি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। চার দিন ধরে চলছে বিদ্যুতের এই সমস্যা। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে লাখ লাখ গ্রাহককে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকার ফলে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। ফলে এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। তব বিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় পল্লী বিদ্যুতের ১ লাখ ৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এই গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করেছে পল্লী বিদ্যুৎ। হঠাৎ করে পৌর শহরে গত সোমবার থেকে গড়ে ৮ ঘণ্টা করে লোডশেডিং হয়েছে।
ইউনিয়ন গুলোতে দিন ও রাতে প্রতি দুই ঘণ্টায় গড়ে এক ঘণ্টা করে বিদ্যুতের সরবরাহ থাকে না। গত ৪ দিন থেকে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং শুরু হয় । বর্তমানে শহরে দিনে ও রাতে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া চলে ১০ থেকে ১২ বার। ভোল্টেজ ওঠানামা করে অন্তত ১৫ বার। ইউনিয়ন গুলোতে আরো বেশি ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। এদিকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে পড়তে বসে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে মোমবাতি বা চার্জার লাইটের ওপর নির্ভর করছেন।
উপজেলার বামনী ইউনিয়নের বাসিন্দা আরিফ মাহমুদ এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, কয়েক দিন ধরে তাঁর এলাকায় বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং চলছে। প্রতিদিন গড়ে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজন প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা করে যে লোডশেডিংয়ের হিসাব দেখাচ্ছে, সেটির সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। এটি কাগুজে হিসাব মাত্র। বাস্তবে লোডশেডিং হচ্ছে অনেক বেশি।
বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম সংকটে। লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের ব্যবসা প্রায় অচল হয়ে গেছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পৌরসভার ব্যবস্থাপনাধীন বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বন্ধ। এসব সমস্যার ফলে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কথা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মোশারফ হোসেন বলেন, তাঁর উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ২১থেকে ২৩ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট করে। এ জন্য এত লোডশেডিং হচ্ছে। বিষয়টি তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র সামনে কোন লোডশেডি কমবে কিনা এই ধরনের কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই বলে দাবি করেন তিনি।