সড়ক মেরামত না করায় কাজে আসছে না দেড় কোটি টাকার ব্রিজ

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউপি'র বাঁশবাড়িয়া গ্রামের পার্শ্বে নির্মিত সাবমারসিবল গ্রামীণ সড়কটি বৃহত্তর খানমরিচ অঞ্চলে চলাচল কারী মানুষের

2026-04-17T18:45:42+00:00
2026-04-17T18:45:42+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
সড়ক মেরামত না করায় কাজে আসছে না দেড় কোটি টাকার ব্রিজ
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ২২৮)
কাজে আসছে না দেড় কোটি টাকার ব্রিজ
X

কাজে আসছে না দেড় কোটি টাকার ব্রিজ

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউপি'র বাঁশবাড়িয়া গ্রামের পার্শ্বে নির্মিত  সাবমারসিবল গ্রামীণ সড়কটি বৃহত্তর খানমরিচ অঞ্চলে চলাচল কারী মানুষের  নিত্যদিনের জন দুর্ভোগের পরিণত হয়েছে। ভাঙ্গুড়া-তাড়াশ (ভায়া নওগাঁ বাজার) অভিমুখি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাঁশবাড়িয়া গ্রামের পার্শ্বে ব্রীজ নির্মাণ করা হলেও তার দক্ষিণাংশে  সংযোগ সড়কে "শতাধিক ফুট দৈর্ঘ্যের  সাবমাসিবল সড়ক" গত বন্যায় পানির স্রোতে ভেঙ্গে বিনষ্ট হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ পথে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। ফলে এ পথে  যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ।

সরজমিন গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা ব্যয় নির্মিত ব্রিজের দক্ষিণ পার্শ্বে সাবমাসিবল সংযোগ সড়কটি বন্যার সময় মাটি ধূয়ে গিয়ে ভেঙ্গে নীচে বসেগেছে। ভাঙ্গা সাবমাসিবল সড়কে গর্তে পানি ও কচুরিপানায় ঢেকে এ সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া বন্যার সময় পানির স্রোতে কোথাও কোথাও পাথর-সুড়কি  উঠে গিয়ে কাদা জমে আছে। ফলে এ পথে যানবাহন ও পথচারী  চলাচলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সড়কের কোন পার্শ্বেই কোনো ধরনের সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এই সড়কটি শুধু অষ্টমনিষা-খানমরিচ অঞ্চলের মানুষের জন্য নয়, আশ-পাশের দিলপাশার,নিমাইচড়া ইউপিসহ বিভিন্ন  গ্রাম থেকে চলাচল কারী  মানুষের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।  প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথ ব্যবহার করে হাট-বাজার, অফিস-আদালত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন কাজে যাতায়াত করে থাকেন। এছাড়াও বিলাঞ্চলের মানুষের গ্রামীণ সড়ক  হিসাবে  কৃষি পণ্য কর্তন ও বাজার জাত করতে পরিবহনের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

খোঁজ-খবর নিয়ে আরোও জানা গেছে, বড়বিশাকোল - সাতবাড়িয়া অভিমুখি সাবমাসিবল সড়কটি গত বছর বন্যায়  ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শুধু যানবাহন চলাচলে নয়, বরং এ পথের পথচারীদের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছেছে।

প্রতিদিন এ পথে  স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা গামী শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষ, আবাল বৃদ্ধ-বণিতাসহ আমজনতা কোন  উপায় না পেয়ে  জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পশ্চিম অংশে ফসলী মাঠদিয়ে  চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। চলনবিল অঞ্চলের কৃষিনির্ভর এই এলাকায় উৎপাদিত ধান, পাট ও শাক-সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছানো যাচ্ছে না,ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সুবিধা ভোগিরা।পুকুরপাড়-নৌবাড়িয়া চৌরাস্তা মোড় পর্যন্ত প্রায় ৭/৮কিঃমিঃ ঘুড়ে এইচবিবিকরণ  বিকল্প পথেও রয়েছে ঝুঁকি। সড়কটি অচল হয়ে পড়ায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে অন্যের জমির আইল দিয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন। 

এতে একদিকে যেমন ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে জমির মালিকদের সাথেও মাঝে মাঝে পথেচারীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে।সামন্য বর্ষা মৌসুমে এই বিকল্প পথও পানিতে তলিয়ে যায়, তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রুপ নেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চলমান থাকলেও এখন পর্যন্ত  স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন  কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা না হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হয়ে উঠবে।

এ পথে চলাচল কারী সিএনজি চালক সাহেব আলী জানান,এ রাস্তা দিয়ে আগে সহজেই যাতায়াত করতাম। এখন বন্যায় রাস্তা ভাঙ্গার কারণে অন্তত ৭/৮ কিঃমিঃপথ  ঘুরে  গন্তব্য স্থানে যেতে হয়। এতে সময়ও বেশি লাগে, আবার তেলের খরচও বেড়ে যায়। যাত্রীরাও বিরক্ত হয়ে যায়।

অটোভ্যান চালক আব্দুল আজিজ জানান, এ পথে সামান্য দূরুত্বের রাস্তা ভাঙ্গার কারণে মাঠের মধ্য দিয়ে  অন্যের জমির আইল দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেতে হয়, যা খুবই কষ্টসাধ্য। একটু বৃষ্টি-বাদল হলেই গাড়ি উল্টে যেতে পারে। তাই আমরা ঝুঁকি নিতে চাই না। ফলে অধিকাংশ যাত্রীই গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

৫ম শ্রেণীর ছাত্রী আর্জিনা খাতুন বলেন, প্রতিদিন এই ভাঙ্গা রাস্তার কারণে জমির আইল দিয়ে কষ্ট করে ক্লাসে যেতে হয়। বৃষ্টির সময় কাদা আর পানির কারণে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। অনেক সময় বৃষ্টির মধ্য পড়ে গেলে পোষাক নষ্ট হলে ক্লাসে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

অপর শিক্ষার্থী সাব্বির জানায়, স্কুলে অল্প সময়ের মধ্যে  যেতে হলে এই রাস্তাটাই সবচেয়ে কাছের হয়। কিন্তু এখন ৭/৮কিঃমিঃ বিকল্প রাস্তা দিয়ে ঘুরে স্কুলে  যেতে হয়। এতে সময় নষ্ট হয়, অনেক সময় ক্লাস মিস হয়ে যায়।

স্থানীয় কৃষক বশির উদ্দিন ফকির আক্ষেপ করে বলেন,আমাদের এলাকার জন্য প্রধান সমস্যা এখন এই  ভাঙ্গা সাবমাসিবল রাস্তাটি। এই রাস্তা ভালো থাকলে আমরা সহজেই ফসল বাজারে নিতে পারতাম। এখন অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়, এতে খরচ বাড়ে, লাভ কমে যায়। অনেক সময় ফসল নষ্টও হয়ে যায়। আমরা এই ভাঙ্গা রাস্তাটি প্রশাসনের মাধ্যমে সরকার বাহাদূরের নিকট দ্রুত মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো.রবিউল ইসলাম বলেন, বিষযটি জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে জানতে পেরেছি। সরজমিন পরিদর্শন করে জনস্বার্থে ভাঙ্গা রাস্তাটি মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy