প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৮ এএম (ভিজিট : ৪৬)

X
নওগাঁয় ঢাকা বাস টার্মিনাল থেকে দুই শিশু উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর
নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার ঢাকা বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ঘোরাফেরা করা অবস্থায় দুই নাবালক শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সরকারি মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জানতে পারেন, দুই শিশু টার্মিনাল এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুরা আপন দুই ভাই পরিচয় দিয়ে জানায়, তাদের বাবা মা ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন এবং তারা নিয়ামতপুর থানার ছাতরা বাজার এলাকায় নানাবাড়িতে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। তারা আরও দাবি করে, সকালে নানি তাদের মারধর করে ১৮ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়, এরপর তারা ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে নওগাঁ বাস টার্মিনালে আসে। তবে বিষয়টি পুলিশ সুপারের নজরে আসলে তিনি শিশুদের থানায় নিয়ে আসা এবং নিয়ামতপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিয়ে থানায় ডাকা হলে অভিভাবকরা এসে জানান, শিশুরা আপন ভাই নয়।
উদ্ধারকৃত শিশুরা, ১) মোঃ নুর নবী ইসলাম (১১), পিতা: মোঃ আনিছুর রহমান, মাতা: ফেন্সি ২) মোঃ আমিনুল ইসলাম (১২), পিতা: মোঃ মুনছুর রহমান, মাতা: মোছাঃ আমেনা বেগম
উভয়ের বাড়ি পোরসা থানার ঘাটনগর মোল্লাপাড়া, জেলা নওগাঁ। পরবর্তীতে জানা যায়, মাদ্রাসার আবদ্ধ পরিবেশে পড়াশোনায় অনাগ্রহী হওয়ায় আমিনুল ইসলাম তার বাবার গরু বিক্রির ২২ হাজার টাকা গোপনে নিয়ে নেয়। এরপর দুজন পরামর্শ করে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ামতপুর থেকে রওনা দেয়। তারা প্রথমে পুলিশের কাছে ভুয়া গল্প বলার চেষ্টা করেছিল।
সকালে লোকাল বাসে করে তারা নওগাঁ আসে এবং বাস টার্মিনালে অবস্থান করছিল। পরে যথাযথ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে তাদের নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
শিশুদের পরিবার জানায়, সকাল থেকেই তারা সন্তানদের খুঁজছিলেন। দ্রুত উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ায় তারা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নাবালক শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্ব প্রথমত পরিবারের। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব রয়েছে। বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলে শিশুরা যেকোনো সময় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির শিকার হতে পারে।” তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের পড়াশোনা ও মানসিক অবস্থার প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান।