
X
ব্রিটিশ আমলের রেললাইন
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়া এখন উন্নয়নের নতুন ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে। চলমান নানা পরিকল্পনা ও বড় প্রকল্পের মাধ্যমে শহরটিকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশন হিসেবে উন্নীত করার প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণ উল্লেখযোগ্য। এসব উদ্যোগ ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।
আগামী ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সফরকে ঘিরে জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। দিনব্যাপী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তিনি আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন। এই সফরকে ঘিরেই শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে।
বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া রেলপথে প্রতিদিন প্রায় ১৮টি ট্রেন চলাচল করে। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ওপর থাকা একাধিক রেলক্রসিংয়ে দিনে বহুবার গেট বন্ধ রাখতে হয়। এতে মুহূর্তেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বগুড়া ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আতোয়ার রহমান বলেন, “রেলগেট বন্ধ হলেই শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানজট কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এটি আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ।”
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই রেললাইন বর্তমান নগর বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বগুড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. ওয়াহিদুর রহমান জানান, “বগুড়া এখন একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও বাণিজ্যিক শহর। শহরের মাঝ দিয়ে রেললাইন থাকা আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের ভেতরের রেললাইন সরিয়ে প্রথম বা দ্বিতীয় বাইপাস সড়কের পাশ দিয়ে রানীরহাট রেলওয়ে জংশনের সঙ্গে সংযুক্ত করা গেলে দীর্ঘদিনের যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।
বগুড়া জেলা প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রেললাইন স্থানান্তরের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে শহরের যানজট নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
বগুড়া শহরের রেলগেট এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফেরদৌসুর রহমান বলেন, “রেলগেট বন্ধ হলেই দোকানে ক্রেতা আসা বন্ধ হয়ে যায়। কখনো কখনো আধাঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।”
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহানা সুলতানা জানান, “পরীক্ষা বা ক্লাসে যেতে গিয়ে প্রায়ই রেলগেটের কারণে দেরি হয়ে যায়। এটি আমাদের জন্য বড় সমস্যা।”
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি কেজিএম ফারুকসহ অনেকে মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর এই সমস্যার সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।
বগুড়ার বিশিষ্ট নাগরিক ও নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহা. হাছানাত আলী ও টিএমএস এর নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, “উন্নয়নের বড় প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি যদি রেললাইন শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে, তাহলে বগুড়ার চিত্রই বদলে যাবে।” বগুড়া সিটি হয়ে উঠবে যানজট মুক্ত একটি আধুনিক নগর।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশন হিসেবে ঘোষণা, প্রেস ক্লাব ও বার ভবনের উদ্বোধন এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চালুর কথা রয়েছে। এসব উদ্যোগে নাগরিক সেবা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভা ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এই জনসভা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা, চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার টেকসই সমাধানেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাদের বিশ্বাস, শহরের ভেতর দিয়ে চলা রেললাইন বাইপাসের মাধ্যমে বাইরে সরিয়ে নেওয়া গেলে বগুড়া একটি আধুনিক, গতিশীল ও যানজটমুক্ত নগরীতে পরিণত হবে।