
X
দুর্গাপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন তিন ধর্মের মানুষ
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের রামবাড়ি পাগাইরা খালের ৫ হাজার মিটার খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রুহানীকান্দা এলাকায় মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী তিনজন প্রতিনিধি একসঙ্গে খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম, থানার ওসি মো. কামরুল হাসান, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিনসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পূর্বে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজে সেচ সংকট দেখা দিত। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোগ নেন। এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং মাছ চাষের সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বহুদিন ধরে ফসলি জমি নিয়ে বিপাকে আছি। বর্ষাকালে পানি জমে ফসল নষ্ট হয়। এই খাল খনন হচ্ছে, এতে আমরা অনেক খুশি।
উদ্বোধনকারী খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী অঞ্জন চিসাম বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। মাননীয় ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হলাম। আমরা তিন ধর্মের মানুষ হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্মিলিতভাবে এই কাজের উদ্বোধন করেছি। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, আমরা এখানে মিলেমিশে বসবাস করছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাকৈরগড়া ইউনিয়নের রামবাড়ি হতে শুকনাকুড়ি পূর্বদিকে গলইখালি ব্রিজসংলগ্ন কংশ নদী পর্যন্ত ৫ হাজার মিটার খাল খনন করা হবে। প্রকল্পের বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। এ খাল খননের ফলে আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রাম উপকৃত হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার স্যারের তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায় খনন কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা বলেন, খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে কৃষকদের ফসল ফলাতে কষ্ট পোহাতে হয়। এই খাল খননে এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন।