
X
সবুজে ঘেরা শান্ত নিঝুম গ্রাম এনায়েতপুর। এই গ্রামেই ফকির বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটিতে গড়ে উঠেছে এক অনন্য সংগ্রহশালা ‘ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘর’। ‘সভ্যতার সাক্ষী’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করা এই জাদুঘরটি বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় লোকজাদুঘর হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ৬নং কাফ্রিখাল ইউনিয়নে অবস্থিত এই জাদুঘরটি মূলত লেখক,কবি ও শিক্ষক আদিল ফকিরের ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের মাঝামাঝি সময়ে এর কাজ শুরু হলেও, চলতি বছরের ২১ মার্চ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
কি আছে এই জাদুঘরে: পল্লি জনপদের বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ব্যবহার্য সামগ্রীর এক বিশাল ভাণ্ডার এই জাদুঘর। বর্তমানে এখানে প্রায় ৪০০টিরও বেশি প্রাচীন ও দুর্লভ নিদর্শন রয়েছে। যার মধ্যে গ্রামীণ জীবনযাত্রায় ব্যবহৃত পুরনো তৈজসপত্র, কৃষি সরঞ্জাম এবং লোকজ সংস্কৃতির নানা উপাদান অন্যতম। কর্তৃপক্ষ জানায়, গত এপ্রিল মাসেই প্রায় ৫ হাজার দর্শনার্থী এই জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন।
প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন: জাদুঘর প্রাঙ্গণে পা রাখলেই চোখে পড়ে বিশাল এক স্বচ্ছ জলের পুকুর। সেখানে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে নৌকায় চড়ার ব্যবস্থা। পুরো প্রাঙ্গণটি সাজানো হয়েছে বসার স্থান ও প্রাকৃতিক স্নিগ্ধতা দিয়ে।
শিশু ও পাঠকদের জন্য বিশেষ আয়োজন: শিশুদের জন্য এখানে গড়ে তোলা হয়েছে ‘শিশুরাজ্য’। দোলনা, স্লাইড আর বিভিন্ন রাইড নিয়ে সাজানো এই অংশটি সবসময়ই শিশুদের কোলাহলে মুখর থাকে। অন্যদিকে, বইপ্রেমীদের জন্য রয়েছে খোলা আকাশের নিচে ‘উন্মুক্ত পাঠাগার’। প্রকৃতির মাঝে বসে বই পড়ার এমন সুযোগ দর্শনার্থীদের সৃজনশীলতাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করছে।
ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘরে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার বলেন, বেশকিছুদিন থেকে এখানে আসার ইচ্ছা ছিল। আজ আমি সহ আমার কয়েকজন বন্ধু এসেছি। তিনি বলেন, প্রাচীন আমল সহ নব্বই দশকের বিলুপ্ত প্রায় সব জিনিসপত্র এখানে আছে। তবে তিনি ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘরের কাঁচা রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য উপজেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ পলাশ মিয়া,তিনি বলেন, এই রাস্তাটি পাকা করা হলে ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘরে দর্শনাথী বাড়বে। দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়বে ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘর তথা এই অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্য।
প্রতিষ্ঠাতা আদিল ফকির জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। ফকির বিদ্রোহের এই পুণ্যভূমিতে এসে মানুষ যেন শুধু ইতিহাস নয়, বরং মানসিক প্রশান্তিও খুঁজে পায়,এমনটাই লক্ষ্য ছিল এই জাদুঘরটি গড়ার পেছনে।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মোঃ পারভেজ বলেন, আমি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। রাস্তা সংস্কার সহ আনুষাঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার জন্য উপজেলা প্রশাসন সর্বচ্ছ চেষ্টা করবে।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সময় কাটানোর পাশাপাশি শেকড়কে জানার জন্য ‘ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘর’ এখন দর্শনার্থীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে।