
X
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর
সাফটা (SAFTA) চুক্তির আওতায় শুল্কারোপে নতুন করে কঠোরতা করায় টানা তিন দিন ধরে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে আসা ট্রাকচালকরাও। গত বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) থেকে এ স্থবিরতা শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সাফটা চুক্তির আওতায় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপ বাস্তবায়নে কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ‘Certificate of Origin’ যাচাই-বাছাই জোরদার করায় পাথর আমদানিতে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বন্দরে পাথরবাহী ট্রাকের প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
আমদানিকারকরা জানান, কোন রকম অবগত না করেই হঠাৎ নেওয়া এ সিদ্ধান্তে তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বন্দরে ট্রাক আটকে থাকায় পণ্য খালাস সম্ভব হচ্ছে না, ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে লোকসানের পরিমাণ। এছাড়াও অনেক ব্যবসায়ীর অভিযোগ করছেন ভুটানের পাথরের পরিমাপ আর বাংলান্ধা পোর্টের পরিমাপ বেশ গড়মিল এখানেও আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।
এদিকে, আমদানি বন্ধ থাকায় চর্তুদেশীয় ট্রাকচালকরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বন্দরে অবস্থান করতে হচ্ছে তাদের। অনেক চালক পর্যাপ্ত খাবার ও বিশ্রামের সুযোগ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাফটা চুক্তির বিধি অনুযায়ী শুল্ক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করেই পণ্য ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন নির্দেশনার কারণে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বাংলাবান্ধা সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এই বন্দর দিয়ে চার দেশ থেকে পাথর আমদানি হয়। হঠাৎ করেই কাস্টমস কোনো রকম আল্টিমেটাম ছাড়াই নতুন শুল্ক আরোপ কঠোর করছে। ভুটান থেকে অতিরিক্ত পাথর এলে এবং ‘Certificate of Origin’ না থাকলে সেটিকে সাধারণ শুল্কে রূপান্তর করা হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
অন্যদিকে, আরেক টি গ্রুপের সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম বলেন, “এই বন্দর মূলত পাথরনির্ভর। সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ১৮টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। ‘Country of Origin’-এ উল্লেখিত ওজন অনুযায়ী পণ্য আনতে হয়। ভুটান থেকে আমদানির ক্ষেত্রে আমরা অতিরিক্ত কিছু সুবিধা পেয়ে থাকি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের অন্যতম সদস্য মোজাফফর বলেন, “পাথর একটি উন্মুক্ত পণ্য। ভুটান থেকে আসতে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। প্রাকৃতিক কারণে ওজনে কিছুটা কমবেশি হয়। এলসি খোলার সময় ৫ শতাংশ পর্যন্ত ডলারের ছাড় থাকলেও ‘Certificate of Origin’ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে বন্দরে জটিলতা তৈরি হয়েছে।”
আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক রেজাউল করিম শাহীন জানান, “আটকে থাকা ভুটান ও ভারতের ট্রাকগুলো নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।”
ব্যবসায়ীরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান ভুটান থেকে যে ভাবে পাথর পরিমাপ আসে এখানে ঠিক সেভাবেই এখানেও পরিমাপ হয়। এদিক ওদিক হওয়ার কোন সুয়োগ নেই । তারপরও আমরা স্কেল-এ কোন ত্রুটি আছে কি না তা দেখার জন্য শীঘ্রই বিএসটিআই থেকে এক্সপাট আসবে চেক করার জন্য । খুব স্বল্প সময়ে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
বাংলাবান্ধা এলসি স্টেশনেের সহকারী কমিশনার সাঈদুর রহমান মুন্না জানান সাফটা চুক্তির আওতায় পন্য আমদানিতে একটি ছোট্ট সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।