
বাঁশখালীতে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দুপক্ষের হট্টগোল, ফলাফল স্থগিত
বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির (২০২৬-২৭) নির্বাচনে দিনভর নানা নাটকীয়তা, পরস্পরবিরোধী বিজ্ঞপ্তি, দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধস্তাধস্তি ও বিশৃঙ্খলার জেরে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকার পর ভোটের ফলাফল স্থগিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার। একই সঙ্গে সন্ধায় ভোট শেষে আইনজীবীদের মাঝে হট্টগোলের মধ্যেই ভোটকক্ষ থেকে ভোটের সব ব্যালট উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সোমবার দুপুর ১২টায় বাঁশখালী কোর্টে অবস্থিত আইনজীবী সমিতির অফিসে কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এরআগে কার্যকরী ১২টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ ১০টিপদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ১০ জন নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় শুধুমাত্র এই দু্টি পদে ভোট হয়। এ সময় আইনজীবীদের মধ্যে একটি পক্ষ ভোট বর্জন ও অতীতের সব ফলাফল বাতিল চেয়ে হট্টগোল শুরু করলে ঘন্টাখানেক পর ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। পরে দফায় দফায় বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে ব্যাপক হট্টগোলে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১২টার দিকে নির্ধারিত সময়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ ভাবে শুরু হয়। পরবর্তী দুপুর ১টার দিকে আইনজীবীদের একটি পক্ষ ভোট বর্জন ও অতীতের সব ফলাফল বাতিল চেয়ে ভোট কক্ষের সামনে হট্টগোল শুরু করেন। এ সময় সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও হট্টগোল ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট তিন নির্বাচন কমিশনার ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়ে ভোটকক্ষের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে দেন এবং ভোট কক্ষে অবরুদ্ধ থাকেন। পরে আইনজীবীদের দু'পক্ষের মধ্যে কয়েকদফা হট্টগোল, ধস্তাধস্তি ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনার প্রথমে ভোট স্থগিত, নিজেদের পদত্যাগের ঘোষণা এবং সর্বশেষ নির্বাচনের ফলাফল স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এরপর নির্ধারিত সময় বিকাল ৪টা পর্যন্ত আর ভোটগ্রহণ শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময়ের ৪০ মিনিট পর নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো ফলাফল ঘোষণা ছাড়াই কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এ সময় কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ব্যালট পেপার ও নির্বাচন সামগ্রী উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে আইনজীবীদের একটি পক্ষ মোবাইলের ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে পুরো ভোটকক্ষ তল্লাশি ব্যালট পেপার খুঁজে পাননি। এ সময় কোর্টে উপস্থিত সকলে বিস্ময় প্রকাশ করেন। পরে উপস্থিত অনেকে জানান, ভোট গ্রহণ শেষে ব্যালটগুলো একটি ফাইল করে জানালার পাশে থাকা একজন সিনিয়র আইনজীবীর হাতে দিলে তিনি সেই ব্যালট পেপারের ফাইল নিয়ে দ্রুত ভোট কক্ষের সামনে থেকে সটকে পড়েন।
এদিকে ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষে ভোটকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় নির্বাচন কমিশনারের কাছে ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের কিছু না বলে দ্রুত ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করেন।
পরে মুঠোফোনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট দিলীপ কান্তি সুশীল প্রতিবেদককে বলেন, 'নির্বাচনে দুটি পদে দেড় ঘন্টা ভোটগ্রহণ হয়েছে। পরে দু'পক্ষের মধ্যে বিশৃঙ্খলার কারণে আমরা ফলাফল ঘোষণা করতে পারিনি। তাই ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট তকছিমুল গণী ইমন বলেন, মব সৃষ্টি করে পরিকল্পিতভাবে আমার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে সিন্ডিকেট করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতার নামে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। আজকে আইনজীবীরা ভোট বর্জন করেছেন। প্রহসনের ভোট বন্ধ রেখে ভোটকক্ষ থেকে চুরি করে ব্যালট সরিয়ে নিয়েছে তাঁরা। আইনজীবীরা এই ভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন। আমরা পুনঃতফসিল ঘোষণা করে সবাইকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানাই।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। অপরদিকে সন্ধায় ভোটগ্রহণ শেষে আদালত ভবনের সামনের বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝে ধস্তাধস্তি ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরআগে দু'পক্ষের হট্টগোলকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আদালত ভবনের মূল ফটকে অবস্থান নেন।