
X
বাস যাত্রীদের চরম ভোগান্তি
নীলফামারীর সৈয়দপুরে দীর্ঘ কয়েক বছর থেকে ঢাকাগামী বাস যাত্রীদের নির্ধারিত যাত্রী ষ্ট্যান্ড না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের গেটওয়ে হিসাবে পরিচিত সৈয়দপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর ও যোগাযোগ কেন্দ্র হওয়ায় এখানে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, নোয়াখালী, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়া-আসার জন্য দেশের ব্রান্ডের দিবা ও রাত্রীকালীন বাস-সার্ভিস। সেইসাথে রয়েছে সাধারন খেটে খাওয়া মানুষজনসহ গার্মেন্টস সহ ছোটো-ছোটো চাকুরিজীবিদের জন্য আরো অনেক কম ভাড়ার বাস-সার্ভিস।
কিন্তু, নির্দিষ্ট কোনো যাত্রী ছাউনি বা ষ্ট্যান্ড না থাকায় যাত্রীদের বাসগুলোতে যাওয়া-আসার জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এসব বাস-সার্ভিসগুলোর টিকিটি কাউন্টার শহর ও আন্তঃজেলা বাস-টার্মিনাল এলাকায় থাকলেও এসব বাস-সার্ভিসের যেসব স্থান থেকে বাসে উঠা-নামা করতে হয় সেসব জায়তায় নেই কোনো যাত্রীদের বসার জায়গা, নেই কোনো ছাউিিন, সবচেয়ে যোটা বড় প্রয়োজন সেটা হলো নেই টয়লেট ও প্র¯্রাবখানা। যার জন্য সব বয়সি নারী-পুরুষদের পোহাতে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনা।
বেশ কয়েক বছর আগে শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের বাস-কাউন্টারগুলোর সামনে থেকে বাসগুলো চলাচল করলে তখন কিছুটা স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছিলেন যাত্রীরা। কিন্তু, শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি ওই সড়কের এক ব্যক্তির দোকানে ঢুকে পড়লে দূর্ঘটনায় মালিকের পুত্র নিহত হয়। তখন থেকেই মূলতঃ শহরের ওই সড়কের বাস-কাউন্টারগুলোর সামনে থেকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
তারপর থেকে টিকিট এসব কাউন্টার থেকে কাটলেও বিভিন্ন বাস-সার্ভিসের যাত্রীদের উঠতে হয় সৈয়দপুর পাইলট স্কুল, বাস-টার্মিনালের খালেক পাম্পের সামনে, সিঙ্গার শোরুমের সামনেসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে যেসব এলাকায় নেই কোনো যাত্রী ছাউনি, যাত্রীদের বসার জায়গা, নেই কোনো টয়লেট ও প্র¯্রাবখানা। যার ফলে রোদ-বৃষ্টিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে এসব জায়গা থেকেই দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ভোগান্তি করে যাত্রী সাধারন চলাচল করে আসছেন। টয়লেট না থাকার কারণে বিশেষ করে প্রবীন ও নারী যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে রাতের বেলা যাতায়াতকারী যাত্রী, নারী ও শিশুদের অবস্থা এখন ‘নরক যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে।
এক ভুক্তভোগী যাত্রী জানান, রাত পৌনে ১১টার নাবিল কোচের টিকিট কেটেও শহীদ জিকরুল হক সড়কের কাউন্টার থেকে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় রংপুর রোডের আইয়ুব পাম্পের সামনে। বৃষ্টিতে ভিজে সেখানে গিয়ে দেখা যায় এক বিভীষিকাময় চিত্র। না আছে কোনো যাত্রী ছাউনি, না আছে বসার ন্যূনতম ব্যবস্থা। ড্রেনের ওপর আধা ভেজা অবস্থায় ড্রেনের উৎকট গন্ধের মধ্যেই যাত্রীদের বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
আরেক ভুক্তভোগী যাত্রী জানান, টিকিট কাটার পরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বাইপাস সড়কের খালেক পেট্রোল পাম্পের সামনে।
এসব ভুক্তভোগী যাত্রীরা তাদের অভিজ্ঞতার কথায় জানান, সবচেয়ে হৃদয়-বিদারক দৃশ্য হচ্ছে বয়োজ্যেষ্ঠ যাত্রীদের ক্ষেত্রে। বাসের জন্য কাউন্টারগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে মালপত্র নিয়ে ছুটতে গলর্দগম হতে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত অবমাননাকর ও অনিরাপদ।
তাই, সৈয়দপুরের সচেতন মহল অতি দ্রুত একটি পরিকল্পিত শহর হিসেবে একটি আধুনিক ‘ঢাকা কোচ স্ট্যান্ড’ বা সমন্বিত যাত্রী ছাউনি নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।