
X
ছাত্রদল–শিবির সংঘর্ষ
চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট এলাকা-এ অবস্থিত সরকারি সিটি কলেজ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ছাত্ররাজনীতির সংঘাতে। একটি গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেলের হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কলেজ ভবনের দেয়ালে আঁকা একটি গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে। সেখানে আগে লেখা ছিল ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। অভিযোগ রয়েছে, সোমবার রাতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী ওই গ্রাফিতি থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দেন এবং তার পরিবর্তে উপরে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেন। এই ঘটনাকে ঘিরেই ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা পরদিন সংঘর্ষে রূপ নেয়।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে প্রথম দফায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও উত্তেজনা থেকে যায় পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে।
এরই ধারাবাহিকতায় বিকেল ৪টার দিকে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় দুই পক্ষের অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায় এবং কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। মুহূর্তেই পুরো এলাকা আতঙ্কে ছেয়ে যায় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও শুরুতে তাদের কার্যকর কোনো হস্তক্ষেপ চোখে পড়েনি। এতে সংঘর্ষ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিকেলের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে হাসপাতাল পার্কভিওতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন বলেন, গ্রাফিতির লেখাকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে কোতোয়ালী থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে এই ঘটনা আবারও শিক্ষাঙ্গনে সহিংস ছাত্ররাজনীতির ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে। একটি সামান্য গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে এমন সংঘর্ষ শুধু শিক্ষার পরিবেশকেই বিঘ্নিত করছে না, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।