বুড়িচংয়ে সেচ পাম্পের ৩ ট্রান্সমিটার চুরি, ঝুঁকিতে ১৫০ বিঘা ধান

দেবিদ্বার ও বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গাজীপুর গ্রামের পয়াত মাঠে সেচ পাম্পের তিনটি ট্রান্সমিটার চুরির ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। গত

2026-04-22T20:10:24+00:00
2026-04-22T20:10:24+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
বুড়িচংয়ে সেচ পাম্পের ৩ ট্রান্সমিটার চুরি, ঝুঁকিতে ১৫০ বিঘা ধান
দেবিদ্বার ও বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১০ পিএম   (ভিজিট : ১৫৩)
৩ ট্রান্সমিটার চুরি
X

৩ ট্রান্সমিটার চুরি

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গাজীপুর গ্রামের পয়াত মাঠে সেচ পাম্পের তিনটি ট্রান্সমিটার চুরির ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। গত তিন মাসে একই স্থানে দুইবার ট্রান্সমিটার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। সময়মতো সেচ না পেলে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকার পয়াত মাঠে পরিচালিত একটি সেচ প্রকল্পের গভীর নলকূপ থেকে তিনটি ট্রান্সমিটার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সকালে কৃষকরা মাঠে গিয়ে ট্রান্সমিটার না দেখে নলকূপ মালিককে বিষয়টি জানান। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো ট্রান্সমিটার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, গাজীপুর সেচ পাম্পের আওতায় প্রতি মৌসুমে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়। এই সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল শতাধিক কৃষক। কিন্তু বারবার ট্রান্সমিটার চুরির কারণে সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে মাঠজুড়ে ধানক্ষেত পানির অভাবে শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ ধানের আবাদ থাকলেও অনেক জমিতে পানি নেই। কোথাও কোথাও মাটি ফেটে শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে দ্রুত সেচ চালুর দাবি জানিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আড়াই বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। কয়েক দফায় পানি দিয়েছি। কিন্তু ৭ দিন ধরে পানি দিতে পারছি না। দু-এক দিনের মধ্যে পানি না পেলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে।”

সেচ পাম্পের পরিচালক সাত্তার মেম্বার বলেন, “গত তিন মাসে এই নিয়ে দুইবার ট্রান্সমিটার চুরি হয়েছে। আগেরবার কষ্ট করে টাকা তুলে নতুন ট্রান্সমিটার লাগিয়েছিলেন। এবার আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ফসলহানি অনিবার্য।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসকে জানানো হয়েছে, তবে তারা কৃষকদের নিজস্ব অর্থে ট্রান্সমিটার কেনার পরামর্শ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বুড়িচং বিএডিসির (ক্ষুদ্রসেচ) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইসহাক মিয়াজি বলেন, প্রকল্পটি বিএডিসির আওতাভুক্ত না, তাই আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা সম্ভব হচ্ছে না। 

অন্যদিকে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বুড়িচং অফিসের ডিজিএম দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আগেও একই প্রকল্পের ট্রান্সমিটার চুরি হয়েছিল। তখন মালিকের আবেদনের ভিত্তিতে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পুরোনো কিস্তি শেষ হওয়ার আগেই আবার চুরি হয়েছে। মাঠের মাঝখানে অবস্থানের কারণে বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।”
 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy