প্রকাশ: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম (ভিজিট : ১৭৩)

X
মসজিদের ইমাম ইমরান হোসেন নূরী
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত ইমাম ও ওই নারীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাশঁবাড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমামতির পাশাপাশি একই গ্রামে ‘মিফতাহুল উলুম কওমিয়া হাফিজিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন হাফেজ ইমরান হোসেন নূরী (৩৭)। ইমরানের ছোট ছোট তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
মাদ্রাসার পাশেই রয়েছে রানা সেখের বাড়ি। রানা তার স্ত্রী ইসমত আরা (৩৮) ও তার ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। তাদের একটি কন্যা সন্তান আছে, যার বিয়ে হয়ে গেছে। মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার সুবাদে প্রায় সময়ই রানা সেখের বাড়িতে সময় কাটান ইমরান। ইমাম ইমরান ইসমত আরাকে শাশুড়ি বলে ডাকতেন। একপর্যায়ে রানা সেখের স্ত্রী ইসমত আরা এবং ইমাম ইমরানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় বছর তিনেক ধরে প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা ইমরানকে একাধিকবার রানা সেখের বাড়ি যেতে নিষেধ করলেও বারণ শুনেননি ইমরান।
একপর্যায়ে মাস দেড়েক আগে ঋণগ্রস্ত হওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গাজীপুরে পারি জমান রানা শেখ। পরে ইসমত আরার সঙ্গে যোগসাজশে গাজীপুরের মৌচাকে চলে যান ইমরান। সেখানে ভাড়া বাসায় ১০ এপ্রিল রাতে ইসমত আরা ও ইমরানকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ধরে ফেলেন রানা সেখ। সেখানে মান সম্মানের ভয়ে ইমরানকে ছেড়ে দিয়ে ইসমত আরাকে তার বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদের মোহনপুর এলাকায় রেখে যান রানা সেখ।
সর্বশেষ বাবার বাড়ি থেকে গত ১৩ এপ্রিল রাতে দুই সন্তানের জননী ইসমত আরাকে নিয়ে পালিয়ে যান চার সন্তানের জনক হাফেজ ইমরান হোসেন নূরী (৩৭)। তারপর থেকে তাদের আর কোন খোঁজ মেলেনি।
এদিকে হাফেজ সন্তানের খোঁজ না পেয়ে চার নাতি ও পুত্রবধূকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ইমরানের বাবা দুলাল শেখ। বুধবার দুপুরে ইমরানের বাড়িতে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ দুলাল সেখ।
তিনি জানান, ছেলেকে অনেক কষ্টে হাফেজ বানিয়েছি। এলাকায় তার বেশ সুনাম রয়েছে। কিন্তু ছেলে যে এমন কাজ করতে পারে ভাবতেই পারিনি। মান সম্মান সব শেষ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় তার স্ত্রী, ছোট ছোট তিনটি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। আমি বৃদ্ধ মানুষ কোনো আয় রোজগার করতে পারি না। তাদের ভরণ পোষণ কীভাবে করবো, সেই চিন্তায় আমি দিনে দিনে অসুস্থ হয়ে পড়ছি।
রানা শেখের প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোমিন মন্ডল বলেন, আমরা সবাই মিলে মাদ্রাসা ও মসজিদটি দেখাশোনা করি। রানা সেখের বাড়ির পাশ দিয়ে মাদ্রাসায় যেতেন ইমরান। রানার স্ত্রী ইসমত আরাকে শাশুড়ি বলে ডাকতো সে। ইসমত আরাকে নিয়ে ইমাম ইমরান পালিয়ে যাওয়ায় গ্রামের মান সম্মান সব নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় মাদ্রাসার প্রায় আড়াই লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে ইমরান। তাদের কোন খোঁজ খবরই পাচ্ছি না।