তাপপ্রবাহ আর লোডশেডিংয়ে বিপাকে পোল্ট্রি খামারিরা, মারা যাচ্ছে মুরগি
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৩ পিএম (ভিজিট : ৯২৪)

X
তাপপ্রবাহ আর লোডশেডিংয়ে বিপাকে পোল্ট্রি খামারিরা, প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে মুরগি
রায়পুরে কয়েক দিনের টানা দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। প্রচণ্ড গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। তীব্র রোদ ও গরমে খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে। উপর ঘন ঘন লোডশেডিং এখন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে খামারিদের জন্য। এতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন খামারিরা।
জানা যায়, রায়পুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন রায়পুর উপজেলার পোলট্রি খামারিরা। গ্রামে দিন ও রাতের ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।
রায়পুরে ৩০০টি পোলট্রি খামার রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ব্রয়লার খামার রয়েছে ২১০টি এবং লেয়ার ও দেশি মুরগির খামার রয়েছে ৯০টি। তীব্র লোডশেডিংয়ের ফলে প্রতিদিনই এসব খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে। খামারের ওপর নির্ভরশীল অনেক খামারি তাই দুশ্চিন্তায় রয়েছে। খামারিরা বিদ্যুতের বিকল্প তেল সংকটে জেনারেটরের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না করতে পারায় প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোকে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার পোলট্রি খামারের বিপুল সংখ্যক মুরগি মারা যাচ্ছে।
খামারিরা বলছেন, সব কিছু নিয়ে বিপাকে আছি। মুরগিতে ব্যবসার কোনো সম্ভাবনাই দেখছিনা। উল্টো কয়েক গুণ খরচে ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিদিনই মারা পড়ছে শত শত মুরগি। ডিমেরও উৎপাদন নেই। পরিত্রাণেরও কোনো উপায় দেখছিনা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিং ও তেল সংকটের মধ্যে জেনারেটর দিয়ে মুরগি পালন করা কঠিন। এ জন্য এমন স্থানে খামার তৈরি করতে হবে, যাতে সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আসতে পারে। এ ছাড়া তীব্র গরমের সময় বিদ্যুৎ না থাকলে মুরগির শরীরে পানি স্প্রে করতে হবে। তাহলে হিট স্ট্রোকে মুরগি মারা যাওয়ার হার কমবে।