আজমিরীগঞ্জে শ্রমিক ও মেশিনের অভাবে মাঠেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় বোরো ধান

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

হাওরাঞ্চলের বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ধান কাটাকে ঘিরে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিকের অভাব ও হারভেস্টার

2026-04-23T13:20:56+00:00
2026-04-23T13:20:56+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
আজমিরীগঞ্জে শ্রমিক ও মেশিনের অভাবে মাঠেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় বোরো ধান
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২০ পিএম   (ভিজিট : ১১০)
আজমিরীগঞ্জে শ্রমিক ও মেশিনের অভাবে মাঠেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় বোরো ধান
X

আজমিরীগঞ্জে শ্রমিক ও মেশিনের অভাবে মাঠেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় বোরো ধান

হাওরাঞ্চলের বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ধান কাটাকে ঘিরে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিকের অভাব ও হারভেস্টার মেশিনের অনুপস্থিতিতে পেকে থাকা ধান সময়মতো কাটতে পারছেন না কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতেই অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অবশিষ্ট ধান দ্রুত ঘরে তোলার চাপ তৈরি হলেও বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না।

সরকারি ভাবে এ উপজেলায় কম্ভাইন হারভেস্টার মেশিন ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এসব মেশিনের উপস্থিতি খুবই সীমিত। কোথাও হাতে গোনা কয়েকটি মেশিন দেখা গেলেও অনেকগুলোই অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

সম্প্রতি পৌরসভা, জলসুখা ও কাকাইলছেওর ঘরদাই এলাকায় আরও তিনটি হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হলেও স্থানীয়দের দাবি, সেগুলোরও কার্যকর উপস্থিতি নেই।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠে পেকে থাকা ধান কাটার অপেক্ষায় পড়ে আছে। একসঙ্গে ধান পাকার কারণে শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে গেলেও সেই অনুপাতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

পৌর এলাকার কৃষক ছিদ্দিক মিয়া জানান, তিনি প্রায় ৭০ কিয়ার জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। এর মধ্যে ২০ কিয়ারের ধান ৮০ শতাংশের বেশি পেকে গেছে। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না।

তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ ধান পাকলেই কাটতে বলছে। কিন্তু শ্রমিক নেই, আবার এলাকায় হারভেস্টারও দেখা যায় না—আমরা চরম বিপাকে আছি।

আরেক কৃষক পলাশ মিয়া বলেন, কাগজে শুনি অনেক হারভেস্টার আছে, কিন্তু মাঠে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। যদি সত্যিই মেশিন থাকত, তাহলে শ্রমিকের জন্য হাহাকার করতে হতো না।

কৃষক আবু ফজল মিয়া বলেন, হাওরে শ্রমিক সংকটের কারণে প্রতি কিয়ার জমির ধান কাটতে শ্রমিকদের ৩ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এছাড়া মাড়াইয়ের জন্যো কিয়ার প্রতি ৭০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। অথচ হারভেস্টার মেশিন দিয়ে কাটলে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকায় কাজ শেষ করা যেত অর্থাৎ প্রতি কিয়ারে প্রায় ১ হাজার ৭০০ টাকা সাশ্রয় হতো। এতে সময় ও পরিশ্রম দুটোই কম লাগত। কিন্তু পুরো হাওরজুড়ে খুঁজেও একটি হারভেস্টার মেশিনের দেখা পাইনি।

কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, এ বছর শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণেরেও বেশী। আবাদ খরচও বেড়েছে। এর মধ্যে ধানের দাম কম সব মিলিয়ে আমরা বড় ক্ষতির মুখে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ভর্তুকির হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে তা তাদের কোনো কাজে আসছে না। অনেক মেশিন অচল, আবার কিছু মেশিন বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, হাওরে শ্রমিক সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে অন্যান্য এলাকা থেকে শ্রমিক আনা যায়। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ৮০টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা চলছে। তবে কিছু মেশিন নষ্ট রয়েছে, যেগুলো মেরামতযোগ্য নয়।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy