চিতলমারীতে দেড়মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক, দুশ্চিন্তায় কৃষক

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

ধান চাষ করে এখন বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। দেড়মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের দাম মেটাতে হচ্ছে। আবার অনেক

2026-04-26T11:38:21+00:00
2026-04-26T11:38:21+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
চিতলমারীতে দেড়মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক, দুশ্চিন্তায় কৃষক
চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম   (ভিজিট : ২৮৯)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

ধান চাষ করে এখন বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। দেড়মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের দাম মেটাতে হচ্ছে। আবার অনেক স্থানে টাকায়ও মিলছে না শ্রমিক। তেলের অভাবে ধানকাটা মেশিন ঠিকমত চলছে না বলে দুর্ভোগ বাড়ছে। এতে চাষিরা ধান চাষের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। এ অবস্থায় কিভাবে বোরো ফসল ঘরে তুলবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না চাষিরা। 

স্থানীয় চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হলেও শেষ সময়ে এসে নতুন ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা। একদিকে প্রতিদিন আসছে ঝড়-বৃষ্টি অন্যদিকে শ্রমিক সংকট ও ধানকাটা এবং মাড়াই মেশিন চালাতে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। অন্য দিকে বাজারে ধানের দাম অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক কমে যাওয়ায় দেড় মণ ধানের দামে মিলছে না একজন শ্রমিক। এ অবস্থায় অনেকেই নতুন ফসল ঘরে তোলা নিয়ে মাহা চিন্তায় পড়েছেন। 

উপজেলার কলাতলা, হিজলা, বড়বাড়িয়া, শিবপুর, চিতলমারী সদর, চরবানিয়ারী ও সন্তোষপুর ইউনিয়নে মাঠের জমিতে চিংড়ি চাষ করার পাশাপাশি অধিকাংশ ঘেরের জমিতে বিভিন্ন জাতের রোরো ধানের চাষ হয়েছে। কৃষি প্রধান এ অঞ্চলের চাষিরা সবসময়ই আগাম ফসল চাষাবাদে তৎপর থাকেন। চিংড়ি ঘেরের পাড়ে শশা,করোলা,টমেটো চাষের পাশাপাশি সেখানকার জমিতে বছরে একবার রবি মৌসুমে ব্যাপক ভাবে বোরো ফসল চাষ করা হয়। এসব জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের হীরা-২, হীরা-৯, আলোরন, স্বাতী, ইস্পাহানি-২, ইস্পাহানি-৭সহ অসংখ্য জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু দেশীয় জাতও রয়েছে। 

এসকল ধান চাষাবাদের মাধ্যমে চাষিদের সারা বছরের খোরাক ঘরে আসে। বোরো ফসলই চাষিদের খদ্য সংকট দূর করে থাকে এবং এখানকার ফসল দেশের অনেক স্থানে চালান হয়। কিন্তু এ বছর ফসল ঘরে তোলা নিয়ে নানামুখি সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে রয়েছে ধান কাটা শ্রমিকের অভাব। 

অন্যদিকে ধান কাটার জন্য যন্ত্র নির্ভরশীল হওয়ায় ধান কাটা ও মাড়াই মেশিন চালাতে যে জ¦ালানি তেলের চাহিদা রয়েছে সেটি প্রয়োজনের তুলনায় মিলছে সামন্য। যেটি দিয়ে ধান ঘরে তোলা সম্ভব নয় বলে হতাশ চাষিরা।

 উপজেলার কুরমনি মাঠের চাষি মালেক শেখ, দুর্গাপুর মাঠের চাষি প্রতুল হালদার ও  শ্যামপাড়া গ্রামের বোরোচাষি মধাব বৈরাগীসহ অনেকে জানান, এখন অধিকাং ফসলে পাক ধরেছে। বেশিরভাগ স্থানে ধান কাটা শুরু হয়েছে কিন্তু মেশিনের জন্য পর্যাপ্ত তেল মিলছে না। এছাড়া কৃষি অফিস থেকে তেলের জন্য যে কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সে কার্ড নিয়ে পাম্পে গিয়ে দীর্ঘ লাইন দিয়েও প্রয়োজনীয় তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট রয়েছেই। ধানের মণ বিক্রি হচ্ছে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকায় অথচ একজন শ্রমিকের মূল্য ১১ শ’ থেকে ১‘২শ’ টাকা। এতে দেড় মণ ধানের দাম দিয়ে প্রতিদিন একজন শ্রমিকের দাম মেটাতে হচ্ছে। তারা অনেকেই বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুদে, কর্যে টাকা এনে চাষাবাদে ব্যয় করেছেন এখন কিভাবে আসল চালন ঘরে তুলবেন এবং ঋণ শোধ করবেন সেটি ভেবে পাচ্ছেন না বলে হতাশা ব্যক্ত করেন। 

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার সিফাত আল মারুফ জানান, চলতি বোরো মৌসুমে এলাকায় ১২হাজার ১৫৫হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এ বছর বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফসল  মাড়াই ও কাটার জন্য এ পর্যন্ত শতাধিক চাষিদের তেলের কার্ড দেওয়া হয়েছে, তবে এলাকায় একটি তেলের পাম্প থাকায় সেখান থেকে ঠিকমত তেল সরবরাহ করতে পারছেন না। এছাড়া ১৪৪০টাকায় সরকার ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছেন সেটি চালু হলে চাষিরা সঠিক মূল্য পাবে বলে তিনি অভিমত দেন। 






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy