নীলফামারীর সৈয়দপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশ পর-পর দুইদিন অভিযান চালিয়ে শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের এসএ পরিবহন পার্সেল সার্ভিসের কাউন্টার থেকে ১৪বস্তা ভারতীয় পটকা জব্দ করেছে। জব্দকৃত পটকাগুলো সৈয়দপুর শহরের চিহ্নিত পটকা কারবারি সেলিম, আলম, আলিম, ফিরোজ ও রহমানের।
জানা যায়, উৎসব সামগ্রীর নামে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে চকলেট বোমাসহ বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় আতশবাজী, পটকা চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে নিয়ে আসেন ওই ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় পুলিশ প্রথমে এসএ পরিবহনের ওই কাউন্টারে অভিযান চালিয়ে ৪ বস্তা পটকা জব্দ করে। এগুলোর মালিক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সেলিম উদ্দিন।
এরপর শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে আবারো থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরো ১০বস্তা পটকা জব্দ করে। এগুলোর মালিক আলম, আলিম, ফিরোজ ও রহমান। সৈয়দপুর থানার এসআই ঋষিকেশ চন্দ্র বর্মণের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স এই অভিযান চালান।
এসএ পরিবহন পার্সেল সার্ভিস সৈয়দপুর শাখার ম্যানেজার মেহেদী হাসান জানান, পুলিশ যে মালামাল জব্দ করেছে সেগুলো বৈধ পণ্য। এগুলো দেশের ভিতর থেকেই কেনা এবং এ সংক্রান্ত চালানও আছে। যদি দেশের বাহির থেকে কেনা হতো এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে কেনার ক্যাশমেমো ও চালান না থাকতো তাহলে এগুলোকে অবৈধ বলা যেতো। বৈধ বলেই আমরা নিয়মিত এসব পণ্য পরিবহন করছি। একইভাবে অন্যান্য কোম্পানীও এসব পার্শ্বেল সার্ভিস দিয়ে আসছে। তাছাড়া যাদের মাল তারা এগুলোতো প্রকাশ্যেই সৈয়দপুর মার্কেটে বিক্রি করছে। অবৈধ হলে কিভাবে বিক্রি হচ্ছে ? পুলিশ অহেতুক জব্দ করেছে। আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখছেন। এসএ পরিবহনের ইমেজ ক্ষুন্ন করতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
সূত্র মতে, সৈয়দপুরের পটকা ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় অবৈধ পটকা চকলেট বোমা সংগ্রহ করে এনে দীর্ঘদিন থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে সরবরাহ করে আসছে এবং সৈয়দপুরে বিশাল মজুদ গড়ে তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, থানাসহ প্রশাসনের লোকজন ও কতিপয় অসাধূ সংবাদকর্মীদের মাসোহারা দিয়ে এই বে-আইনি কারবার চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেদারসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈয়দপুরে পটকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতো মূলত: আহমেদ বুড়া নামে একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ আমলে এই বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন ছাত্রলীগ নেতা সেলিম উদ্দিন। এজন্য তিনি পুলিশের সাথে আঁতাত করে প্রায়ই অন্যদের মাল ধরিয়ে দেন এবং তাদেরকে তার কাছ থেকে মাল নিয়ে ব্যবসা করতে বাধ্য করেন।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুইদিনে মোট ১৪ বস্তা জব্দ করা পটকার মালিক না পাওয়ায় আপাতত সিজার লিস্ট করে আমাদের জিম্মায় রেখেছি। পার্শ্বেল সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বলছে, মালগুলো বৈধ। তা’হলে কাগজপত্রসহ মালিকরা আসুক। তারা সঠিক হলে মাল নিয়ে যাবে নয়তো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।