
X
পলাশবাড়ীতে কালবৈশাখী ঝড়ে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা কয়েক দিনের কালবৈশাখী ঝড়ে বোরো ধান, ভুট্টা, শাক-সবজি, কলা ও আউশ বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে সহস্রাধিক হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষকরা।
২৭ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেককে আহাজারি করতে দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষি ফসলের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধা জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ধানসহ বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে তারা পরিবারের চাহিদা পূরণের স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্ন নিয়েই চলতি মৌসুমে কৃষকরা নানা ধরনের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু কালবৈশাখীর ঝড়ে অনেকের সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে গেছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়ায় সহস্রাধিক হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী, মহদীপুর, বরিশাল, বেতকাপা ও পবনাপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।
পলাশবাড়ী কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২টি পৌর এলাকা ও ৮টি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে এ পর্যন্ত ১৬০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বোরো ধান ৮০ হেক্টর, ভুট্টা ৩৪ হেক্টর, শাক-সবজি ৩১ হেক্টর, কলা ৫ হেক্টর এবং আউশ বীজতলা ৮ হেক্টর।
শ্যামপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আল আমিন মিয়া বলেন, “আমাদের চরাঞ্চলের মানুষ ভুট্টা ফসলের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। প্রতি বছরের মতো এবারও লাভের আশায় উন্নত জাতের ভুট্টা আবাদ করেছিলাম। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়ে সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব, সেই চিন্তায় আছি।”
কিশোরগাড়ী এলাকার আরেক কৃষক জানান, ধারদেনা করে দেড় একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। ইতোমধ্যে ঝড়ের তাণ্ডবে প্রায় এক বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন সোহেল বলেন, “সাম্প্রতিক ঝড়ে ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।”