খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) কম্পিউটার ল্যাবে ব্যক্তিগত গুগল ড্রাইভ অ্যাকাউন্ট লগ-আউট করতে ভুলে যাওয়ায় ফাঁস হয়ে গেছে এক শিক্ষার্থীর ভয়াবহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের চিত্র।
সিএসই বিভাগের ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাসিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নারীর ব্যক্তিগত ছবি, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ভিডিও সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবের কম্পিউটারে এসব কন্টেন্ট সংরক্ষিত পাওয়ায় বর্তমানে ক্যাম্পাসজুড়ে তোলপাড় চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার দুপুরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবে নিজের গুগল ড্রাইভ লগইন করেছিলেন হাসিব। কিন্তু কাজ শেষে অ্যাকাউন্টটি লগ-আউট না করেই তিনি চলে যান। এরপর আইইএম বিভাগের ২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ওই একই কম্পিউটারে ল্যাব করতে এসে অ্যাকাউন্টটি খোলা দেখতে পান।
ফোল্ডারগুলো চেক করতে গিয়ে তারা দেখতে পান, সেখানে সুশৃঙ্খলভাবে বিভিন্ন নারীর নামে ফোল্ডার সাজানো রয়েছে। যেগুলোতে বিপুল পরিমাণ আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত অবস্থায় দেখতে পান তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী এসব অনৈতিক কন্টেন্টকে ট্রফি হিসেবে নিজের সংগ্রহে রেখেছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে যে, উদ্ধার হওয়া ড্রাইভের ফোল্ডারগুলোতে শুধু সাধারণ ছবিই নয়, বরং ধর্ষণ ও শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ছিল। কিছু স্থিরচিত্র ও ভিডিওতে অভিযুক্ত হাসিবকে সরাসরি এসব কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে দেখা গেছে। এই ভিডিওগুলো বিভিন্ন বয়সের নারীদের ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশে রাখা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে থাকা কন্টেন্টগুলোর ধরন দেখে শিক্ষার্থীদের ধারণা, হাসিব ডজনখানেক নারীর সাথে জোরপূর্বক বা ভয়ভীতি দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং সেসব দৃশ্য ধারণ করে রেখেছেন।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর গত রাতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ফজলুল হক হলে গিয়ে হাসিবের কাছে এসব ঘটনার ব্যাখ্যা চান। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানায়। এ ঘটনায় কুয়েট প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা হলেন ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আরিফুজ্জামান, খান জাহান আলী হলের প্রভোস্ট ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইলিয়াস আখতার এবং সহকারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক রাজন কুমার রাহা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাসান আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অভিযোগটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’