ঘাটাইলে ধান কাটা আর কোরবানীর ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে লৌহকাররা

উত্তম কুমার আর্য্য, ঘাটাইল টাঙ্গাইল থেকে

ফিচার

ঘাটাইলে ধান কাটা আর কোরবানীর ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে লৌহকাররা। দিন যতই যাচ্ছে ততই নিকটে

2026-05-02T15:31:18+00:00
2026-05-02T15:31:18+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ঘাটাইলে ধান কাটা আর কোরবানীর ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে লৌহকাররা
উত্তম কুমার আর্য্য, ঘাটাইল টাঙ্গাইল থেকে
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৩:৩১ পিএম   (ভিজিট : ৩২২)
ঘাটাইলে ধান কাটা আর কোরবানীর ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে লৌহকাররা
X

ঘাটাইলে ধান কাটা আর কোরবানীর ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে লৌহকাররা

ঘাটাইলে ধান কাটা আর কোরবানীর ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে লৌহকাররা। দিন যতই যাচ্ছে ততই নিকটে চলে আসছে মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানী ঈদ। এর মাঝে আমাদের কৃষি প্রধান দেশে বাংলা সমাজে ঐতিহ্যগতভাবে কৃষিজীবনে অপরিহার্য ছিল লৌহকার বা কামাররা। তারা কৃষি কাজে ব্যবহৃত হাল, লাঙ্গল, কাস্তে, ছুরি দা ইত্যাদি তৈরী করতেন। তাই ‘‘কামার’’ শব্দটি একটি পেশা নয় বরং গ্রামীন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি পরিচয়। 

বৈশাখ জৈষ্ঠ্য মাসে ইরি-বোরো ধান কাটার মৌসুম। তাইতো কৃষক কয়েকদিন পড়েই ব্যস্ত হয়ে পড়বেন ধানকাটার জন্য। তাই ঘরের ভিতরে থাকা কাস্তে নিয়ে যাচ্ছে লৌহকারদের বাড়ি। সেখানে হয় তারা পুরোনো কাস্তে ধার দিয়ে ধান কাটার উপযোগী করবে নতুবা কিনে নিবে। ধান কাটা শুরু হওয়ায় এমন কি কোরবানীর ঈদ কাছে আসায় ব্যস্ত সময় পার করছে গ্রামের লৌহকাররা।

এ নিয়ে কথা হয় ঘাটাইল উপজেলার পাঁচ টিকড়ী গ্রামের কামার আব্দুল করিম (৫০) এর সাথে। তিনি জানান, ধান কাটার সময় হলে ১০ থেকে ১২দিন আনেহলা ইউনিয়নের মাকেশ্বর গ্রামের বাজারে বসি। আশে পাশের গ্রামের অনেক লোকজন আসে ধান কাটার কাস্তে বানানোর জন্য। যদি আমি এখানে ২সপ্তাহ কাজ করি সেখানে থেকে দশ থেকে বারো হাজার আয় হয়। কামারে কাজ এটা পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া নয় তিনি গ্রামের আরশেদ কামারের  নিকট থেকে ১১বছর বয়সে চরম দারিদ্রতা মাঝে কাজ শিখেন। 

বর্তমানে তিনি দুই সন্তানের জনক । এক মেয়ে ভাগ্নের সাথে বিয়ে দেন কিন্তু সেখান থেকে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। আরেক ছেলে এই কাজের সাথেই জড়িত। তিনি পাশ্ববর্তী উপজেলা ভুয়াপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে বিভিন্ন লোহার তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করেন। তিনি ওই দোকানে বসেন। সামনে কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে নিয়েছে প্রস্তুতি। সেখানে তিনি ৭দিন কোরবানীর মাংস কাটার জন্য দা, ছুড়ি, চাপাতি ইত্যাদি তৈরী করে ১লক্ষ টাকা আয় করবেন বলে জানান। 

তবে বর্তমানে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে এক বস্তা কয়লা কেনা যেতো একশত টাকায় কিন্তু বর্তমানে তা দুইশত পঞ্চাশ টাকায় দাড়িয়েছে। আব্দুল করিম দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে এই প্রতিবেদক বলেন আমাদের কথা সরকার কখনো ভাবে না। কেননা আমরা শারিরীক ভাবে যতদিন সুস্থ্য আছি ততদিন কাজ করতে পারবো। বয়স হয়ে গেলে আর কাজ করা সম্ভব নয়। সেই সময় যদি সরকার আমাদের সুদমুক্ত কিছু ঋন দিতো তাহলে শেষে একটি ব্যবসা করে খেতে পারতাম। অন্যথায় আমাদের জীবন অনেক দুঃখে কষ্টে কাটাতে হবে। তাইতো আমাদের কথা অনেক সাংবাদিক শুনে যায় কিন্তু কোন লাভ হয় না । আমরা যেখানে আছি সেখানেই পড়ে থাকি।





Loading...
Loading...


ফিচার এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy