প্রকাশ: রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ১:২৫ পিএম আপডেট: ০৩.০৫.২০২৬ ৩:৪৬ পিএম (ভিজিট : ২০২)

X
নাসিরনগর হাওরে কৃষকের স্বপ্ন এখন পানির নিচে
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হাওর অঞ্চলে অন্তত ৩ হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় স্বপ্নের সোনালী ফসল ধান পানি নিচ থেকে ডুবন্ত অবস্থায় কাটছেন কৃষক।
বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে নির্বাক কৃষক। কষ্ট আর হতাশা যেন পিছু ছাড়ছে না তাদের। নাসিরনগর মেদির হাওর অঞ্চলে দেখা যায়, হাওরে আগাম বানের পানি আসায় কৃষকের সোনালী আধাপাকা ধানগুলো পানির নিচে তলিয়ে আছে।
দৈনিক ১২'শ থেকে ১৫'শ টাকা মুজুরি দিয়ে শ্রমিক ভাড়া করে হাওরের আধাপাকা ধানগুলো কাটছেন কৃষক। তবে ইতোমধ্যে ডুবে থাকা আধাপাকা ধান গুলোতে পঁচন ধরতে শুরু করছে। এতে হতাশা গ্রাস করছে হাওরের কৃষকদের।
নাসিরনগরের মহাকাল পাড়ার কৃষক আবু লাল মিয়া জানান, তিনি ২০কানি (৩০ শতকে ১কানি) জমিতে ধান রোপন করেছিলেন। মাত্র ৫ কানি জমির ধান পানির নিচ থেকে কেটে আনতে পেরেছেন। এখনো ১৫ কানি জমির ধান পানির নিচে তলীয়ে আছে। কি করবেন বুঝতে পারছেন না।
আক্ষেপ করে কৃষক আবুলাল বলেন, দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যে সুধী এনে জমিতে ধান রোপন করে ছিলেন। আশাছিল ধান বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করবেন। কিন্তু আশা এখন নিরাশায় পরিনত হয়েছে।
আক্ষেপ করে তিনি আরো বলেন, বছরে একটি মাত্র ফসল নষ্ট হয়ে গেল। এখন খাবো কি? আর চলবো কিভাবে? বুঝতে পারছি না। তিনি এ ব্যাপারে সরকারের কাছে সহযোগীতা কামনা করেছেন।
শ্রীপুর গ্রামের নারায়ন দাস বলেন, পানির নিচে তার ধানী ফসলি জমি ডুবে আছে। চার কানি জমিতে তিনি বিআর-২৯ জাতের ধান লাগিয়ে ছিলেন। আর দুই সপ্তাহ সয়র পেলে ধান গুলো বাড়িতে নিতে পারতেন। তবে ধান কাটার আগ মুহূর্তে অকাল বন্যার দেখা দেয়ায় তার জমির ধান এখন পানির নিচে তলীয়ে আছে। তিনি জানান, একটি মাত্র ফসলের উপর পুরো বছর তার পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেই ফসল এখন পানির নিয়ে গেল।
তিনি আরো জানান, পানির নিচ থেকে কেটে আনা এক মণ ধানের দাম বর্তমান বাজারে ৬'শ টাকা। আর একজন ধান কাটার শ্রমিককে দিতে হয় দৈনিক ১৪০০ টাকা। পানির নিচ থেকে ধান কেটে এনে কি করবো? তাই ধানের জমির দিকে তাকিয়ে আছি আর ভাবছি, পানি যদি কমে, তাহলে কিছু ধান পাবো হয়তো।
নাসিরনগর পশ্চিম পাড়া এলাকার কৃষক বাবুল মিয়া বলেন, ২০ বিঘা ধান পানির নিচেে। ধান কাটবো কি? তিনি বলেন, ধানের চেয়ে শ্রমিকের মুজুরি মূল্য বেশি।
নির্বাক চোখে হাওরে তাকিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বাবুল জানান, সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা না করলে আমারা না খেয়ে মরবো। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন কৃষি বিভাগের কেউ এসে খবর নেয় নান। জন) প্রতিনিধিও কৃষকের পাশে নেই। কি করবে হাওরের কৃষকেরা, তাদের কান্না শোনার কেউ নেই।
ব্রাহ্মণকাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন জানান, উজান থেকে নেমে আসা বানের পানিতে হাওরে প্রায় ৩০ ভাগ জমির ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
এ বছর জেলায় ১'লাখ ১১'হাজার ৭'শ ৭০ হেক্টর জমিতে বরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। নতুন জাতের ধানের আবাদ করার কারণে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। হাওরের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, অকাল বন্যায় লক্ষ্য মাত্রায় তেমন কোনো প্রভাব পরবে না।
অপর দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারি খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ নুর আলী জানান, এ বছর সরকার ৩৬টাকা কেজি দরে ১১'হাজার ৫৫ মেট্রিক টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করবে। এতে কৃষকেরা লাভবান হবেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী চলতি বরো মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে ৪'লাখ ৯০'হাজার মেট্রিক টন ধানের উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য ১'হাজার ৭'শ ৬৪ কোটি টাকা।