প্রকাশ: রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ৩:৫৮ পিএম আপডেট: ০৩.০৫.২০২৬ ৪:১৩ পিএম (ভিজিট : ৫৭৫)

X
ফাতেমা আক্তার পলি (৯)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর ফাতেমা আক্তার পলি (৯) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
নিহত ফাতেমা আক্তার পলি (৯) ওই এলাকার অটোরিকশা চালক হেলাল মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের দাবী এটি পরিকল্পিত হত্যা।
রোববার (০৩ মে) সকালে আখাউড়া পৌরসভার দেবগ্রাম উত্তর মাস্টারপাড়া (পূর্ব) কৃষি জমি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, অটোরিকশা চালক হেলাল মিয়া পরিবার নিয়ে মাস্টার পাড়ায় একটি টিনসেডের ঘরে ভাড়া থাকতেন। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। পলি ছিল সবার ছোট। শুক্রবার (১মে) বিকাল থেকে পলি নিখোঁজ হয়। রাতের হেলাল মিয়া আখাউড়া থানায় সাধারণ ডাইরী করেন। অনেক খোজাখুজি করেও পলির সন্ধান পাওয়া যায়নি। রবিবার সকালে বাসা থেকে ১০০/১৫০ ফুট দূরের একটি জমিতে লাশ পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের বাবা হেলাল মিয়া জানান, শুক্রবার বিকাল থেকে আমার মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আত্মীয়-স্বজনসহ আশপাশের সব জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে রাত ৯টার দিকে আখাউড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করি। আজ সকাল ৯টার দিকে পাশের একটি জমির পানিতো আমার মেয়ের লাশ ভেসে থাকে।। অথচ ওই জায়গায় আমি, আমার পরিবার একাধিকবার খোঁজাখুঁজি করেছি তখন কোনো লাশ বা জুতা পাওয়া যায়নি। কিন্তু আজ লাশ ও জুতা পাওয়া গেছে। আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি কয়েকজনকে সন্দেহ করি। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।
এসময় তিনি আরও বলেন, যে দিন হারিয়েছে, সেদিনই যদি মারা যেত, তাহলে তিন দিন লাশ এভাবে থাকত না। লাশে দুর্গন্ধ বা পচন ধরত।
নিহতের বড় ভাই রাসেল মিয়া বলেন, আমার বোনের মরদেহ দেখে মনে হচ্ছে এটা হত্যাকাণ্ড। আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে মেরে লাশ জমিতে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি আমার বোনের হত্যার বিচার চাই।
রাসেল আরও বলেন, ওই দিন বিকালে পাশের বাড়ির একটা ছাগল হারায়েগেছে। আমার মনে হয় কেউ ছাগলটা নিয়ে যাওয়ার সময় আমার বোন দেখে ফেলে।
এদিকে মাস্টার পাড়ার সবুজ মজুমদারের স্ত্রী সুফিয়া আক্তার বলেন, আমার অসুস্থ বোনকে দেখতে যাই। ফিরে এসে দেখি আমার ছাগলটা ঘরে আসেনি। রোববার দুপুর পর্যন্ত ছাগলটি পাইনি।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, পলি নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপর থেকেই আমরা অনুসন্ধান চালাই। রোববার সকালে খবর পেয়ে পাশের একটি ডোবা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা যাবে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।