
X
জমির কাটা ধান বিলে
চলনবিলের আওতাভুক্ত নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন বিলে শত শত বিঘা কাটা ধান পড়ে রয়েছে জমিতে। রাস্তায় পানি থাকায় ওই ধান মাড়াইয়ের ব্যবস্থা করতে পারছেন না কৃষকরা। দিনের পর দিন পড়ে থাকায় ওই পাকা ধানের চারা গজানো শুরু হওয়ার পাশাপাশি আবারও ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিও শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
তবে উপজেলা কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের দাবি, ওই ধানগুলো কৃষকের ঘরে যাতে নেয়া যায় সে বিষয়ে ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, নাটোরের শস্য ভান্ডার খ্যাত সিংড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে ধানের চাষাবাদ হয়েছে ৩৬ হাজার ৬শ ১০ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যেই ৪০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। বিলে রয়েছে ৬০ ভাগ ধান। কিন্তু সাম্প্রতিক ঝড় আর বৃষ্টির পাশাপাশি নদীর পানি বিলে প্রবেশ করায় পাকা ধানের জমি তলিয়ে যেতে থাকে।
স্থানীয় কৃষকরা ওই নদীর পানি রোধে বিভিন্ন পয়েন্টে মাটির বাঁধ নির্ঙাণের পাশাপাশি ক্ষতি কমাতে জমির ধান কাটলেও পানিতে রাস্তা ডুবে যাওয়ায় তা বাড়ি নিয়ে মাড়াই করা সম্ভব হয়নি।
সিংড়া দমদমা এলাকার কৃষক আক্তার হোসেন জানান,চৌগ্রাম ইউনিয়নের ছাতারবাড়িয়া হিয়ালার মাঠে তিনি নিজেদের ৩০ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছেন। ইতোমধ্যেই ১৫-১৬ বিঘা জমির ধান কাটলেও বাড়ি নিতে না পেরে জমিতেই ফেলে রেখেছেন।
একই এলাকার কৃষক মজনু মোল্লা জানান, তিনিও ৩০ বিঘায় ধান চাষাবাদ করেছেন। এরমধ্যে ১৮ বিঘা কেটে জমিতেই ফেলে রেখপছেন। গত ৪-৫ দিনে ফেলে রাখা ওই ধান থেকে বতুন চারা গজাচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ধানগুলো বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কা্চা রাস্তায় পানি উঠেছে। পাশাপাশি কাদায় রাস্তা পিচ্ছিল হওয়ায় ধান ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন,ওই কাঁচা রাস্তাটি সাবমার্সিবল করার পাশাপাশি দুটি ব্রীজ করা হলে তাদের আর সমস্যা থাকবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ জানান, উপজেলা প্রশাসন আর কৃষি বিভাগ স্থানীয় কৃষকদের সহায়তায় ইতোমধ্যেই পাশের আত্রাই নদীর পানি বিলে প্রবেশের কয়েকটি পয়েন্টে মাটি দিয়ে বাঁধ দিয়েছে। তবে কয়েকটি পয়েন্টের কারণে কলম ইউনিয়নের কতুয়াবাড়ি বিলে ৮-১০ বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি চৌগ্রাম ইউনিয়নের ছাতারবাড়িয়া হিয়ালার মাঠে জমিতেই কাটা ধান পড়ে থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,খবর পেয়ে রবিবার দুপুরে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন ইউএনও। কৃষকদের সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও আবৃদুল্লাহ আল রিফাত জানান, জমির কাটা ধান কৃষকের ঘরে যাতে নিয়ে যেতে পারেন সেজন্য রবিবার বিকালে ভেকু দিয়ে মাটি ফেলে পাশের রাস্তাটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বরাদ্দ পেলে ওই এলাকায় দুটি কালভার্টে ব্রীজ করারও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তার দাবি, নতুন করে ঝড় বৃষ্টি না হলে কৃষকদের তেমন একটা ক্ষতি হবে না।