
X
নেছারাবাদের ঐতিহ্যবাহী চেরাই ও গোল কাঠের বাজারে মন্দা, বিপাকে ব্যবসায়ীরা
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বরছাকাঠি এলাকায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী চেরাই কাঠ ও গোল কাঠের ব্যবসা বর্তমানে ধ্বংসের পথে।
প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছরের পুরনো এই বাজার একসময় ছিল এলাকার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা ভিড় জমাতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক সময় এই বাজারে বড় বড় ব্যবসায়ীদের আধিপত্য ছিল। তারা সুন্দরী, রেইন ট্রি, চাম্বল, মেহগনি সহ নানা প্রজাতির কাঠ বিক্রি করে উল্লেখযোগ্য সুনাম অর্জন করেছিলেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমজমাট লেনদেনে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কাঠ বোঝাই নৌকা ও ট্রাকের আনাগোনায় সরগরম থাকত বরছাকাঠি বাজার। বিক্রি হতো কোটি কোটি টাকা। সেখানে এখন দেখা যায় বিক্রেতারা কাটাচ্ছেন অলস সময়।
একাধিক বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে এই ব্যবসা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ার কারণে ও আমাদের বরছাকাঠির ব্যবসা মন্দার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই ভিন্ন। পুরনো অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে ব্যবসা গুটিয়ে নিলে নতুন প্রজন্ম উদ্যোগ নিয়ে বাজারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালায়। কিন্তু বর্তমানে নানা সংকটে পড়ে তারাও হিমশিম খাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, কাঠের তীব্র সংকট, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং, যা চেরাই মিল চালাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং খরচ বাড়ছে।
একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, “আগে প্রতিদিন ভালো বিক্রি হতো, এখন দিন পার হয় অনেক সময় কাঠ বিক্রি ছাড়াই। ব্যাংক ও এনজিওর ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।” তারা আরও জানান, আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয়দের মতে, যথাযথ সরকারি সহায়তা ও স্থানীয় পরিকল্পনার অভাবে একটি সম্ভাবনাময় ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বরছাকাঠির এই ঐতিহ্য একসময় হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।