প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১:০২ পিএম (ভিজিট : ১৫৫)

X
চিতলমারীতে বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুর্ভোগ চাষিদের
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বোরো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুর্ভেগে পড়েছেন চাষিরা। প্রতিদিন ঝড়-বৃষ্টির সাথে মোকাবেলা করতে হচ্ছে তাদের। কিভাবে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলবেন সেটি ভেবে পাচ্ছেন না চাষিরা। বৈরি আবহাওয়ার কারণে অনেকে ধান কাটতে ভয় পাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে অনেকের ফসল জমিতে নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখানকার মাঠের জমিতে চিংড়ি চাষ করার পাশাপাশি অধিকাংশ ঘেরের জমিতে বিভিন্ন জাতের রোরো ধানের চাষ হয়েছে। কৃষি প্রধান এ অঞ্চলের চাষিরা সবসময়ই আগাম ফসল চাষাবাদে তৎপর থাকেন। এসব জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের হীরা-২, হীরা-৯, আলোরন, স্বাতী, ইস্পাহানি-২, ইস্পাহানি-৭সহ অসংখ্য জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু দেশীয় জাতও রয়েছে। বৈশাখের শুরুতে এসব জমির ধান কাটা শুরু হয় কিন্তু এ বছর কয়েক দফা বৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে। প্রতিদিনই আসছে ঝড়-বৃষ্টি। অনেক স্থানে পাকা ফসল বৃষ্টিতে ভিজে গজিয়ে চারা তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় চাষিদের হতাশার যেন অন্ত নেই।
উপজেলার আড়ুয়াবর্ণি গ্রামের বোরোচাষি ইনু শেখ জানান, বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও থেকে টাকা তুলে তিনি ৭ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। কিছু ধান কেটে জমিতে রেখেছেন। সেগুলি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এক দিকে ধানের বাজার খুবই কম, ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে ধান বিক্রি হচ্ছে অথচ একজন ধান কাটার শ্রমিকের দাম ১২ থেকে ১৫ শ’ টাকা। এতে কিভাবে ফসল ঘরে তুলবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না।
এছাড়া শ্যামপাড়া গ্রামের বোরোচাষি নির্মল মণ্ডল, অসীম মণ্ডলসহ অনেকে জনান, এখন সমস্ত জমির ধানই পেকে গেছে, অনেকে ধান কেটে বিপদে পড়েছেন। বৃষ্টিতে কাটা ধান ভিজে গজিয়ে গেছে। ধান চাষ করে লোকসান গুনতে হবে বলে হতাশা ব্যক্ত করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার সিফাত আল মারুফ জানান, এলাকায় উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এ বছর বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টিতে অনেক স্থানে ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে তবে আশপাশের এলাকার চেয়ে এখানকার অবস্থা অনেকটা ভালো আছে। এখন পর্যন্ত ২০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। অবহাওয়া ভালো হয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে সব ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে।