সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৩ মাসের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সারাবাংলা

সুনামগঞ্জ জেলায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ৩ মাস মেয়াদী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিয়ে

2026-05-05T17:57:43+00:00
2026-05-05T17:57:43+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৩ মাসের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৫:৫৭ পিএম   (ভিজিট : ১৮৯)
সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৩ মাসের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু
X

সুনামগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৩ মাসের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু

সুনামগঞ্জ জেলায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ৩ মাস মেয়াদী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন নিয়ে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাসেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম (সুনামগঞ্জ-৪), মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ (সুনামগঞ্জ-৩), কামরুজ্জামান কামরুল (সুনামগঞ্জ-১), কলিম উদ্দিন আহমেদ (সুনামগঞ্জ-৫), প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেছেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, “আমরা এমন কিছু করতে চাই যাতে এই এলাকার মানুষের কষ্ট স্থায়ীভাবে কমে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিক, নির্ভুল ও দুর্নীতিমুক্তভাবে পালন করতে হবে। ত্রাণ সহায়তার তালিকা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধে সময় দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরাই সুবিধা পান।

মন্ত্রী জানান, হাওরাঞ্চল নিয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কিছু কাজ নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। গবেষণার ভিত্তিতে এমন কার্যক্রম নেওয়া হবে, যা এই অঞ্চলের মানুষের কাজে আসবে।

তিনি বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রতিবছর হাওরের ফসল তলিয়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানির নিচেও ধান কাটতে সক্ষম এমন যন্ত্র আনার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন মাসব্যাপী মানবিক সহায়তা কর্মসূচি চালু রাখা হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের দাবির প্রেক্ষিতে এ কর্মসূচি আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

বজ্রপাত থেকে রক্ষায় হাওরে বিশেষ শেল্টার নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান ত্রাণমন্ত্রী। এসব শেল্টারে আধুনিক যন্ত্র বসানো হবে, যাতে বজ্রপাতের ক্ষতি কমে এবং বর্ষাকালে জেলেরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফ ও কৃষি কার্ড প্রদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, কৃষকের স্বার্থে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং এ বিষয়ে কোনো আপোষ নেই। তিনি বলেন, “কৃষি শক্তিশালী হলে দেশও শক্তিশালী হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল সুনামগঞ্জে এসেছে।

মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে যাতে কৃষকদের এমন সমস্যায় পড়তে না হয়, সে জন্য কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। কম সময়ে পাকে এমন ধান উদ্ভাবন ও সরবরাহে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া ডিজেলচালিত কৃষিযন্ত্রগুলো ধীরে ধীরে সৌরশক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে হাওরাঞ্চলে গাছপালা রোপণ এবং অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ধান শুকানোর সমস্যার সমাধানে হাওরে উঁচু পাকা মাচা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার পাশের খননকৃত জলাশয়ে মাছের আবাসস্থল তৈরি করা হবে।

সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টাও বলেন, হাওরাঞ্চলের কৃষকদের টেকসই সুরক্ষা দিতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় শুরুতেই জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক তার উপস্থাপনায় দাবি করেন, হাওরাঞ্চলে প্রায় ৮০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

তবে তার এই তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য আকবর আলী ও অ্যাডভোকেট শেরে নূর আলী। তারা বলেন, “কৃষি বিভাগ কাগজে-কলমে ধান কাটছে, বাস্তবতার সঙ্গে তাদের প্রতিবেদনের কোনো মিল নেই।”

পরবর্তীতে  ত্রাণমন্ত্রী প্রেসক্লাবের সভাপতি কে বিষয়টি নিয়েকথা বলতে বললে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে বলেন, “কৃষি বিভাগের তথ্য এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের ধারণা, কৃষকরা অর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারেননি।”

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম হেলালও এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পক্ষের এমন ভিন্নমত হাওরাঞ্চলের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

বিকেল তারা সুনামগঞ্জ জেলায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রতিশ্রুত ৩(তিন) মাস মেয়াদী মানবিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় উদ্বোধন করেন। এ সময় ২০ কেজি চাল ও নগদ সাত হাজার পাঁচশত টাকা করে চার শত কৃষকের মাঝে বিতরন করেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy