আপসের শর্তে নারী উদ্যোক্তার অর্থ আত্মসাৎ মামলার ২ আসামির জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন-আদালত

বাদী পক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘এত টাকা আত্মসাতের মামলায় কিছু টাকা পরিশোধ না করলে সাধারণত আদালত জামিন হয় না।

2026-05-06T22:18:18+00:00
2026-05-06T22:18:18+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
আপসের শর্তে নারী উদ্যোক্তার অর্থ আত্মসাৎ মামলার ২ আসামির জামিন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম   (ভিজিট : ১৩৫)
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
X

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

বাদী পক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘এত টাকা আত্মসাতের মামলায় কিছু টাকা পরিশোধ না করলে সাধারণত আদালত জামিন হয় না। শুধু আপস করবেন বলে লিখিত গ্রহণ করে জামিন দিয়েছেন। এতে বাদী ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র।’

একজন নারী উদ্যোক্তার ৮০ কোটি ২৩ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় দুই আসামির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত। 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। জামিনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. মেসবাহউদ্দীন ও মো. শওকত আলী।

বাদী পক্ষের আইনজীবী রাজু এইচ পলাশ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ মামলার দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আসামিরা বাদীর চেক ও লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে আপস করবেন বলে আদালতকে লিখিতভাবে জানান। আদালত আগামী ২৭ এপ্রিল তাদের আপসের শর্তে জামিন মঞ্জুর করেন।

আইনজীবী আরও বলেন, এত টাকা আত্মসাতের মামলায় কিছু টাকা পরিশোধ না করলে সাধারণত আদালত জামিন হয় না। শুধু আপস করবেন বলে লিখিত গ্রহণ করে জামিন দিয়েছেন। এতে বাদী ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। এদের পেছনে আরও অনেকে আছেন। শুধু জনকন্ঠ গ্রুপ থেকে ৮০ কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আত্মসাৎকৃত টাকার একটি বড় অংশ তারা কানাডা ও মালয়েশিয়ায় পাচার করেছেন বলেও জানা গেছে।

গত ২৮ জানুয়ারি গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবার গ্রুপের চেয়ারম্যান শামীমা এ খান ওরফে শামীমা আতিকুল্লাহ খান বাদী হয়ে চার জনের নামে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন— মনোয়ারা বেগম ওরফে মনোয়ারা রিয়াজ ও রাজিয়া রহমান ওরফে বৃষ্টি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি রাজিয়া রহমান ওরফে বৃষ্টি জনকণ্ঠ শিল্প পরিবার গ্রুপের চেয়ারম্যান শামীমার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী শাহীন রহমানের মেয়ে। তারা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ছিলেন। রাজিয়ার ছোটবেলা থেকেই নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন বাদী এবং পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করতেন। দীর্ঘদিন অস্বচ্ছল রাজিয়াকে বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তা করেছেন। এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর রাজিয়াকে প্রতিষ্ঠানের 'চিফ বিজনেস' অফিসার পদে নিয়োগ প্রদান করেন। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সম্পূর্ণ আস্থার সঙ্গে যুক্ত করেন। যাতায়াতের জন্য গাড়ী দেওয়া হয়। বিবাহের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করে প্রায় ৫০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার প্রদান করেন।

মামলায় আরও বলা হয়, শামীমা আতিকুল্লাহ খান তার স্বামী আতিকুল্লাহ খান মাসুদের মৃত্যুর পর পারিবারিক ব্যবসার কিছু ব্যাংক ঋণ জটিলতায় পড়েন। এই সুযোগে নিজেকে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন রাজিয়া। তিনি দাবি করেন ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। আসামি রাজিয়া ব্যাংকের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও সমন্বয়কের দায়িত্ব নিজের হাতে নেন। তার প্ররোচনায় শামীমা আতিকুল্লাহ খান বনানী শাখার পূবালী ব্যাংকে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলেন। রাজিয়াকে এই হিসাবের নমিনি করা হয়। এক পর্যায়ে বাদী জমি বিক্রি এবং অন্যান্য উৎস থেকে মোট ৮০ কোটি ২৩ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা ব্যাংক ঋন সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে যোগাড় করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাজিয়া রহমান ও তার সহযোগীরা ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ সমন্বয়ের আশ্বাস দিয়ে শামীমার কাছ থেকে ওই অর্থ ও আর্থিক নথিপত্র নিজেদের দখলে নেন। আসামি রাজিয়া ও অন্যান্যরা পরস্পর যোগসাজশে পুরো টাকাটাই নিজেরা ব্যাংক থেকে নিয়ে আত্মসাৎ করেন। শামীমা দীর্ঘদিন ধরে রাজিয়ার কাছ থেকে আশ্বাস পেতে থাকেন যে ব্যাংক ঋণ সমন্বয়ের কাজ চলমান রয়েছে এবং সমস্ত অর্থ সে উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়েছে। গত বছরের ২৫ আগস্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাদী জানতে পারেন, ব্যাংক ঋণ সমন্বয়ের জন্য কোনো অর্থ জমা দেওয়া হয়নি বরং ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় ব্যাংক শামীমা ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ ঋণ আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেছে। শামীমা টাকা ও চেক ফেরত চাইলে রাজিয়াসহ অন্যরা যোগাযোগ এড়িয়ে যেতে শুরু করেন। অফিসে আসা বন্ধ করে দেন।

অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী তুষার কান্তি দাস জানান, দুই আসামির জামিন হয়েছে। আদালত আপসের শর্তে জামিন দিয়েছেন। এক নম্বর আসামি রাজিয়া দেশের বাইরে থাকায় তিনি আদালতে হাজির হননি। তিনি দেশে এলে বিষয়টি বাদীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করা হবে।






Loading...
Loading...


আইন-আদালত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy