
X
স্বচ্ছ নিয়োগে নতুন দৃষ্টান্ত: ৫৮ জনের চাকরিতে প্রশংসায় সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার
সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, ঘুষ ও দালালমুক্ত প্রক্রিয়ায় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ সম্পন্ন করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ।
মাত্র ১২০ টাকা আবেদন ফিতে অনুষ্ঠিত এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ৫৮ জন তরুণ-তরুণী বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এবারের নিয়োগে মোট ৪ হাজার ৩০০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ৫১৬ জন শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেন। সেখান থেকে ১০৯ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে মৌখিক (ভাইভা) ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষাসহ সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে ৫৮ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। শারীরিক সক্ষমতা, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক মূল্যায়ন এবং মানসিক দক্ষতার ভিত্তিতেই সম্পূর্ণ যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্যে কৃষক, শ্রমিক, ড্রাইভার, রিকশা-ভ্যান চালক, প্রবাসী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।
নির্বাচিত প্রার্থীদের পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। তারা জানান, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও স্বপ্নপূরণের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে এই নিয়োগের মাধ্যমে।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অনিয়ম, ঘুষ বা তদবিরের সুযোগ রাখা হয়নি। প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি ছিল। আমরা একটি স্বচ্ছ ও আদর্শ নিয়োগ প্রক্রিয়ার উদাহরণ স্থাপন করতে চেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের আস্থা অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য। স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে। মেধার ভিত্তিতে সুযোগ পেলে তরুণরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।