কৃষকরা বলছেন, একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে ধান কাটার মৌসুমে ঘনঘন ঝড়বৃষ্টি তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এছাড়া ভেজা ধান বাজারে বিক্রি করারও তেমন সুযোগ নেই।
চাষিরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। বর্তমানে শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে প্রতি বিঘায় আরও প্রায় ৬ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতি বিঘায় মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে ১৮ থেকে ১৯ হাজার টাকা। অথচ প্রতি বিঘায় ধানের ফলন হচ্ছে ২২ থেকে ২৪ মণ। বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। এতে লাভ তো দূরের কথা, অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
উপজেলার শেরপুর গ্রামের কৃষক সানোয়ার ও বেলাল হোসেন, চাংলা গ্রামের পলাশ ও আইজারসহ একাধিক কৃষক জানান, ইউরিয়া সার, হালচাষ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ১৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় শ্রমিকরা নগদ টাকার পরিবর্তে প্রতি বিঘায় ৫ মণ ধান চুক্তিতে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ করছেন।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবাব ফারহান বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে পানি জমে আছে। তবে কৃষকরা ইতোমধ্যে সেসব জমির ধান কাটতে শুরু করেছেন। এ বছর উপজেলায় ১১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।”