
বন রক্ষকের বিরুদ্ধেই বন উজাড়ের অভিযোগ এলাকাবাসীর
ফিল্ড এসিসট্যান্ট সাইফুল ইসলামের কর্মস্থল বাংলাদেশ বনগবেষণা কেন্দ্রের হেয়াকো বীজ বাগান কেন্দ্র, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রামে। কিন্তু থাকেন বাড়ির পাশে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার চরকাই বনগবেষণা কেন্দ্রে। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিজ এলাকায় চাকুরির সুবাদে তিনি গড়ে তুলেছেন গাছ চোরের সিন্ডিকেট। সেই সিন্ডিকেটেকের করাতেই প্রতিনিয়ত চুরি হয়ে উজার হতে বসেছে চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্রের ১৯২ একর বনের গাছ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার শওগুনখোলা গ্রামের মো. সাইফুল ইসলাম ফিল্ড এসিসট্যান্ট হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে চরকাই বনগবেষণা কেন্দ্রের সিলভিকালচার রিসার্চ বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। গাছ চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবছর ৮ জানুয়ারী সাইফুল ইসলাম কে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির হেয়াকো বীজ বাগান কেন্দ্রে বদলী করে। কিন্তু অজানা কারনে আজও বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেনি সাইফুল ইসলাম। রয়ে গেছেন চরকাই বনগবেষণা কেন্দ্রে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি “ বন উজাড়ের নিমিত্বে চোর পুষছে চরকাই বনগবেষণা কেন্দ্র ”?
গত ২১ এপ্রিল গাছ চুরি করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও এলাকাবাসী কিছু গাছ জব্দ করে। সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যম কর্মীর কাছে গাছ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পর থেকেই সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বনের গাছ কেটে বন উজাড় করতে থাকে। এ বিষয়ে স্টেশন কর্মকর্তাকে বারবার অবহিত করা হলেও তিনি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। ফলে সাইফুল ইসলাম আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এভাবে গত দুই বছরে প্রায় ১০০ একরের বাগানের গাছ কেটে চুরি করে বন উজাড় করেছেন। গড়ে তুলেছেন গাছ চুরির শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
গ্রামবাসী আরো অভিযোগ করে বলেন, গাছ চুরি রোধে তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও কর্মকর্তারা তাদের সহযোগিতা না নিয়ে উল্টো চোরদের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে চলেন। শুধু তাই নয়, এ সব ব্যাপারে কথা বলতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দেওয়া হয় এবং মামলা দেয়ার হুমকী দেয়া হয়।
উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা থাকলেও গাছ চুরির পর গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা থানায় কোন মামলা দেন না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাছ চুরির সঙ্গে এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগশোজ থাকায় তারা মামলা দেন না।
এ বিষয়ে চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্রের স্টেশন কর্মকর্তা (এফ আই) মো. রবিউল ইসলাম জানান, সাইফুল ইসলামের গাছ চুরির বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সাইফুল ইসলামকে শোকজ করতে বলছেন। ফটিকছড়িতে বদলী হওয়ার পরেও চরকাই কেন্দ্রে অবস্থান করার বিষয়ে চরকাই বনগবেষণা কেন্দ্রের স্টেশন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম কোন লিখিত আদেশ দেখাতে পারেননি। তিনি জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে সাইফুল ইসলামকে চরকাই বনগবেষণা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান মুঠোফোনে জানান, ফিল্ড এসিসট্যান্ড সাইফুল ইসলামের গাছ চুরির বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।।