বগুড়া সদর উপজেলায় আত্মীয়তার পবিত্র সম্পর্ককে কলঙ্কিত করে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সাত মাস ধরে বিষয়টি গোপন থাকলেও বর্তমানে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত মো. মাহফুজার রহমান (৫২) কে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মাহফুজার রহমান ভুক্তভোগী কিশোরীর দূর সম্পর্কের আত্মীয়। সেই সুবাদে তাদের বাড়িতে মাহফুজারের অবাধ যাতায়াত ছিল। গত ৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ওই কিশোরী তার দাদির সঙ্গে দেখা করতে কুরশা শঠিবাড়ী গ্রামে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ঐদিন বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে মাহফুজার কৌশলে কিশোরীকে তার জনশূন্য বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান এবং বিয়ের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বয়ান অনুযায়ী, এই ঘটনার পর মাহফুজার রহমান বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তাকে কঠোর হুমকি দেন। এমনকি ঘটনা ধামাচাপা দিতে কিশোরীর হাতে মাত্র ৩০ টাকা দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। লোকলজ্জা আর প্রাণের ভয়ে কিশোরী এতদিন বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিল।
সম্প্রতি ওই কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। এক পর্যায়ে সে তার নানির কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। বর্তমানে কিশোরী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত মাহফুজার রহমান কিশোরীর পরিবারকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং মামলা না করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মঙ্গলবার বগুড়া সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান- "অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মাহফুজার রহমানকে গ্রেপ্তার করেছি। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।"
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, "আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সাথে আলোচনার কারণে মামলা করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। আমি আমার মেয়ের ওপর হওয়া এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
এ ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, ঘরের কাছের পরিচিত বা আত্মীয়দের ওপর অন্ধবিশ্বাস অনেক সময় বড় বিপদের কারণ হতে পারে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের দিকে অভিভাবকদের সজাগ দৃষ্টি রাখা এখন সময়ের দাবি।