ভোগাই নদী ভাঙনে বিলীনের পথে বেনীরগোপ, টেকসই বাঁধের দাবিতে এলাকাবাসী

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

ভারতের নকরেক গ্রীশিকর পিক পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি খরস্রোতা ভোগাই নদীর অব্যাহত ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে চরম দুর্ভোগে

2026-05-07T15:24:43+00:00
2026-05-07T15:24:43+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ভোগাই নদী ভাঙনে বিলীনের পথে বেনীরগোপ, টেকসই বাঁধের দাবিতে এলাকাবাসী
নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৩:২৪ পিএম   (ভিজিট : ১৮৭)
ভোগাই নদী ভাঙনে বিলীনের পথে বেনীরগোপ, টেকসই বাঁধের দাবিতে এলাকাবাসী
X

ভোগাই নদী ভাঙনে বিলীনের পথে বেনীরগোপ, টেকসই বাঁধের দাবিতে এলাকাবাসী

ভারতের নকরেক গ্রীশিকর পিক পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি খরস্রোতা ভোগাই নদীর অব্যাহত ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের বেনীরগোপ গ্রামের মানুষ। অবৈধ বালু উত্তোলন আর বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলে নদীতে স্রোত বেড়ে গেলে তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। 

এতে করে প্রতিবছরই ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই এলাকার পারিবারিক কবরস্থান, ওয়াক্তিয়া মসজিদ, দোকান বসতবাড়িসহ কয়েক একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারা হয়ে গেছে অনেক মানুষ। গত কয়েক বছরের চেয়ে গেল বছর দেদারসে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে জ্যামিতিক হারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও নদীতীর রক্ষা বা স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে দায়িত্বশীল কোনো দপ্তর কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। গত কয়েক বছরে নদীর পূর্ব তীরের অন্তত ৫০০ মিটার এলাকা ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। ভুক্তভোগী আব্দুল ওয়াদুদ ও হাবিবুর রহমানসহ এলাকাবাসী জানান, তাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি একে একে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। ভাঙ্গন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি স্থানীয়দের।

এদিকে, ভাঙনকবলিত এলাকাজুড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা  করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন বর্ষায় আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

২০২৪/২৫ অর্থবছরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সাড়ে পাঁচ টন জিআর চাল বরাদ্দ পেয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু অংশে প্যালাসাইডিং ও জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলা হলেও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। এতে ভিটে মাটির পাশাপাশিও সরকারি বরাদ্দও চলে যাচ্ছে নদী গর্ভে।

উরফা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম তালুকদার ভুট্টো বলেন, "আমার ইউনিয়নের এই গ্রামটি ভোগাই নদীর ভাঙ্গনের ফলে বিলীন হতে বসেছে। আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।" সর্বসাধারনের মত এটি আমারও দাবী।
নকলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, তাদের দপ্তরের মাধ্যমে স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণ সম্ভব তাই সীমিত বরাদ্দ দিয়ে জরুরী ভিত্তিতে কিছু অংশে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, 'বেনীরগোপ ও পিছলাকুড়ি এলাকার ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভাতেও বিষয়টি একাধিকবার উপস্থাপন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত একটি টেকসই প্রকল্প গ্রহণ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।'






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy