
X
উলিপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর সাব- রেজিষ্ট্রার অফিসের আনুষ্টানিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৮৮২ সালে। প্রতিষ্ঠার ৮৮ বছর পর নতুন ভবন নির্মীত হয় ১৯৮০ সালে। ৪৬ বছরের পুরন জরাজীর্ন অফিসটি ২০১২ সালে কুড়িগ্রাম জেলা গণপুর্ত বিভাগ সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসটিকে পরিত্যাক্ত ঘোষনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি প্রদান করেন।
১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ৭ লক্ষ। উপজেলার আয়তন ৪৫৯ বর্গ কিলোমিটার। ফসলি জমির পরিমান ৫২৭ হেক্টর। বর্তমান অফিসে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাব-রেজিষ্ট্রার ১ জন, ১জন অফিস সহকারী, ১জন মোহরার, ১জন টিপ মোহরার, ১জন অফিস সহায়ক, ১জন নৈশ প্রহরী ও ১জন ঝাড়ুদার সহ ০৭ জন কর্মচারী রয়েছেন। এর বাইরেও নকল নবিস ৩৮ জন ও ৯২ জন দলিল লেখক কাজ করছেন। ১৬ফিট দৈর্ঘ ও ১৪ ফিট প্রস্তের অফিস রুমটিতে পূর্বদিকে সাব- রেজিষ্ট্রার এজলাস, সামনে অফিস সহকারী মোহরার, টিপসহি মোহরার, অফিস সহায়ক, টিসি মোহরার সহ জমি ক্রেতা, বিক্রেতা ওই রুমে গাদাগাদি করে অতি কষ্টে দলিল সম্পাদনের কাজ করেন। পানি, সৌচাগার, বসার স্থান না থাকায় প্রচন্ড বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন নারী পুরুষর সহ অফিসে আশা লোকজন।
উপজেলার ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের পরিক্ষিত চন্দ্র বলেন ২ সপ্তাহ থেকে জমি বিক্রির জন্য অফিসে এসে ফেরৎ যাচ্ছি দলিল করতে পারি নাই অফিস বন্ধ থাকার কারনে।
দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক ও সাধারণ সম্পাদক বাবলু পাঠান বলেন গত ১৫ বছরে উলিপুর অফিসে স্থায়ী অফিসার না থাকায় দলিল সম্পাদনে সরকারি আয় যেমন কমেছে অন্যদিকে মানুষের কষ্টও বেড়েছে।
অফিস সহকারী সাজ্জাদ হোসেন জানান গত ১৫ মাসে কবলা, হেবা ঘোষনা, ওছিয়ত, বন্দকি সহ ১১,০৯৩ টি দলিল মূলে ২৮টি খাতে ২২ কোটি টাকার ও বেশি সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। নতুন ভবন হলে একদিকে যেমন কষ্ট লাঘব হবে অন্যদিকে সরকারি আয় আরও বৃদ্ধি পাবে।
সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ ওয়াহেদুল ইসলাম জানান আমি নাগেশ্বরী উপজেলায় স্থায়ী ও উলিপুর অফিসে গত ০৭/০৫/২০২৬ইং থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি, আমার পারিবারিক ও শারিরিক সমস্যায় ছুটির কারনে অনেক সময় উলিপুর অফিসে মাসে ৬ দিন ও নাগেশ্বরীতে সপ্তাহে ৩দিন অফিস করতে হয়। অফিসে আবাসিক ভবন, লেট্রিন, বাথরুম, পানির লাইন সহ কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা নেই। ষ্টোর রুমের ছাদের প্লাস্টার ধ্বসে পড়ে বৃষ্টির পানিতে ভিজে উই পোকা দলিল ও অফিসের প্রয়োজনীয় নথিপত্র নষ্টকরে ফেলছে।
কুড়িগ্রাম জেলা রেজিষ্ট্রার রুহুল কুদ্দুছ জানন জেলায় ৯টি উপজেলায় মাত্র ৪ জন কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন ফলে ১ জন অফিসারকে ২ থেকে ৩টি উপজেলায় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সে কারনে দলিল ক্রেতা বিক্রেতাদের শতভাগ সেবা দেয়া যাচ্ছে না। জনবল সংকটের বিষয়টি লিখিতভাবে আইজিআর (ইন্সিপেক্টর জেনারেল অব রেজিষ্ট্রেশন) অফিসে একাধিকবার চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।