প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম (ভিজিট : ১৯৫)

X
ইন্টারপোলের মাধ্যমে হত্যা মামলার আসামীকে দুবাই থেকে দেশে আনলো পিবিআই
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আরিফ সরকারকে (৪০) ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে দুবাই থেকে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার (৬ মে) তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামী আরিফ সরকার (৪০) নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া কামারগাঁও এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিন সরকারের ছেলে।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদর দপ্তর থেকে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার আরিফ সরকার শিবপুর উপজেলার পুটিয়া কামারগাঁও গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিন সরকারের ছেলে। গত ৬ মে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
তদন্ত চলাকালে এর আগেও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যতম আসামী মহসীনকে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালতে দেওয়া তার জবানবন্দিতে আরিফ সরকারসহ অন্যান্য আসামীদের সম্পৃক্ততা ও পরিকল্পনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। তদন্তে আরিফ সরকারের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর তার বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-এর সহায়তা চাওয়া হয়।
পরবর্তীতে আরিফ সরকারের দুবাইয়ে অবস্থান নিশ্চিত হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে তাকে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর পিবিআই নরসিংদী জেলা আরিফ সরকারসহ অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরই ধারাবাহিকতায় ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ আরিফ সরকারকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করে। পরে পিবিআই ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে।
হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর শিবপুর থানায় মুলতবি থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে শিবপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে শিবপুর থানা পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা ১৩ মিনিটে নিজ বাসায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খানকে পিস্তল দিয়ে গুলি করে গুরুতর আহত করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর একই বছরের ৩১ মে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় তার ছেলে আমানুর রশিদ খান বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শিবপুর মডেল থানায় আরিফ সরকারসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২৩ সালের ২৩ জুন পিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে।