গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানীতে ভূয়া প্রতিবন্দী ভাতার ছড়াছড়ি। এক বাড়িতে ২২ জনের সুপারিশ ! এসব প্রতিবন্ধী ভাতা করাতে সুপারিশ প্রাপ্তদের গুনতে হয়েছে জনপ্রতি কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।
মেম্বরদের স্ত্রী ও স্বামী এবং সন্তানদের প্রতিবন্দী দেখিয়ে ভোগ করা হচ্ছে ভাতা । জানা গেছে, কাশিয়ানী উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে ২০২৬ সালে প্রতিবন্দী ভাতার জন্য জরিপ ও মেডিকেল করা হয়। এ সময়ে প্রায় ১২ শত আবেদন জমা হয়। এর মধ্যে এক হাজারের বেশী লোকের কাগজপত্র প্রতিবন্দী হিসাবে গ্র্রহণ করা হয়। তাদের ভাতা প্রাপ্তির জন্য সুপারিশ করে উপজেলা কমিটি।
সরেজমিনে গেলে, থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। প্রতিবন্দী ভাতার জন্য সুপারিশ প্রাপ্তদের অধিকাংশের অথাৎ ৮০% লোকের ভূয়া কাগজপত্র ও ভূয়া মেডিকেল রির্পোট তৈরী করে তাদের প্রতিবন্দী দেখানো হয়েছে। আর এই সব জাল কাগজপত্র ভূয়া মেডিকেল রির্পোট তৈরীর সাথে জড়িত রয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, সদস্য, সংরক্ষিত সদস্যরা এবং সমাজসেবা অফিসের কতিপয় কর্মী এবং তাদের সাথে রয়েছে দালাল চক্র।
রাজপাট ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাল কাগজপত্র ও ভূয়া রির্পোট বানিয়ে এক বাড়িতেই ২১ জনকে প্রতিবন্দী দেখানো হয়েছে। তাদের সকলের জন্যই ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তান রয়েছেন। রাজপাট গ্রামের মোঃ হেলাল ও হোসনেয়ারা বেগম জানায়, মেম্বাররা আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। আমাদের দুইজনকে ভাতা করে দিবে বলে। মেম্বর নিজেই অনলাইন ও মেডিকেল রির্পোট করে দিয়েছে। জেসমিন বেগম জানায়, ‘আমি কাগজপত্রসহ ভাতা করতে মোট ১৭ হাজার টাকা দিয়েছি।’ নওশের ও মুনজুয়ারা জানায়, ‘আমাদের স্বামী ও স্ত্রী দুইজনের ভাতা করতে মোট ১৮ হাজার টাকা দিয়েছি। আমাদের কোন কাজ করতে হবে না মেম্বররাই করে দিবে।’ ফরিদা বেগম ও মতূর্জা জানায়, ‘আমাদের স্বামী স্ত্রী মাজায় ব্যাথা দেখিয়ে ভাতা করেছি আমার মোট ১৪ হাজার টাকা লেগেছে। ভাতা হলে আরো ছয় হাজার টাকা দিতে হবে।’ রাজপাট ইউনিয়নসহ অনেক ইউনিয়নেই মেম্বরদের স্ত্রী ও স্বামী এবং সন্তানদের প্রতিবন্দী দেখিয়ে ভাতা ভোগ করা হচ্ছে। কাশিয়ানী ১৪ টি ইউনিয়নেই একই চিত্র।
এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা আইন শৃঙ্খলা সভায় বারবার বললেও কোন ফল হয়নি।
এ ব্যাপারে মোঃ মিল্টন মিয়া কটুর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘আমি কারো দায় নিবো না। অপরাধী করলে তার সাজা হবে। আপনারা সঠিক রির্পোট করলে আমার কোন আপত্তি বা অসুবিধা নাই।’
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার বলেন, কিছু সমস্যা হতে পারে। জেলা প্রশাসক সংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছেন। এ বছরে ১৪ টি ইউনিয়নে ১১ থেকে ১২ শত লোকের সুপারিশ করেছি। পূর্বে ১০ হাজার ২৯৩ জন প্রতিবন্দী ভাতা পায়।