আধুনিকতার ছোয়ায় মানিকগঞ্জে ঐতিহ্য হারাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

প্রযুক্তির প্রভাব, প্লাস্টিক ও আধুনিক পণ্যের দাপটে মানিকগঞ্জে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প। সংকটে পড়েছে এ পেশার সঙ্গে জড়িত প্রায় দেড় হাজার পরিবার। সরকারি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার দাবি শিল্পীদের।

2026-05-09T13:37:57+00:00
2026-05-09T13:37:57+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
আধুনিকতার ছোয়ায় মানিকগঞ্জে ঐতিহ্য হারাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প
ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১:৩৭ পিএম   (ভিজিট : ৯৫)
আধুনিকতার ছোয়ায় মানিকগঞ্জে ঐতিহ্য হারাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প
X

আধুনিকতার ছোয়ায় মানিকগঞ্জে ঐতিহ্য হারাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প

মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলায় প্রযুক্তির চাপে ঐতিহ্য হারাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প। এ পেশার সাথে জরিত প্রায় দেড় হাজার পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে।

বাঁশের পরে বেতের তৈরি সামগ্রী বিক্রি করে জীবন জীবিকার অন্যতম বাহক হিসাবে তাদের অনেক কদর ছিল। বাজারে প্লাস্টিক ও এলোম্যানিয়াম এবং আধুনিকতার ছোয়ায় এবং উন্নত প্রযুক্তির কাছে বেত শিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন পন্যের চাহিদা একেবারে কমে গেছে। ফলে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি  হারিয়ে যাচ্ছে এ দেশ থেকে। প্রাচীনকাল থেকে বংশনুক্রমে গড়ে ওঠা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্পটি আজ বিলুপ্তির পথে। 

মানিকগঞ্জের ঘিওর, শিবালয়, দৌলতপুর, সাটুরিয়া, সিংগাইর উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ভোরের নীরবতা ভেঙ্গে পাড়া, মহল্লা ঘুরে  বেতের তৈরি কারিগররা বাঁশ ও বেত ঝোপঝার কিনতো। তারা কাস্তে দড়ি, হাতে নিয়ে তার সারা দিন ঘুরে বেড়াতো গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি বাড়ি। বেত ঝোপ চুক্তিতে কিনে তারা সারা দিন বেত ছাড়িয়ে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে যেত। বেত পানিতে জাগ দিয়ে রাখতো ১০ থেকে ১৫ দিন। পরে বাড়িতে বসে মনের সুখে তারা বেতের তৈরি পণ্য তৈরি করতো। কিন্তু এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পরেনা। কালের আর্বতনে হাড়িয়ে যাচ্ছে সকল বেত শিল্পের নানা পন্য সামগ্রী। আর এ পেশার সাথে জরিত লোকজনের ভাগ্যে নেমে এসেছে চরম দুর্দিন ও হতাশা। 

মানিকগঞ্জে  ৭টি উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে বেতের তৈরি ধামা, কাঠা,দাড়িপাল্লা, কাঠি, পাটি, সেড়, দোলনাসহ বিভিন্ ধরনের খেলনা ঘিওর ,বরংগাইল তরা , মহাদেবপুর সহ সিংগাইর, সাটুরিয়ার বিভিন্ন হাট বাজারে প্রচুর বিক্রি হতো। বিভিন্ন মেলাতেও বেতের তৈরি দ্রব্য সামগ্রী বিক্রি হতো প্রচুর। কিন্তু বর্তমানে প্লাটিক, এলোমোনিয়াম,সিলভার এবং কাঁচের তৈরি জিনিসের কাছে হেরে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী বেত শিল্পটি। 

এ পেশার সাথে জড়িত শিল্পীরা বেতের তৈরি জিনিসপত্র এখন আর তৈরি করতে চায়না। তারা হতাশ হয়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অন্য পেশায়। এ পেশার সাথে জড়িত অনেকে দুঃখ করে বলেন,বেতের কাজ ও কুটির শিল্পের অন্তভুক্ত করা হলেও বিসিক কিংবা সংশ্লিস্ট কোনো সংস্থা এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য তেমন ভুমিকা রাখছেনা। 

তবে এই শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্টপোষকতার পাশাপাশি এ পেশার সাথে জড়িত লোকজনকে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, বাঁশ বেতের চাষাবাদের ব্যবস্থাসহ সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা দিলে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে তাদের উন্নয়ন ঘটবে। তাহলেই এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। তা না হলে অচিরেই হাড়িয়ে যাবে এই ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্পটি।

 ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ঋষিপড়া গ্রামের  প্রবীন বেত শিল্পী সুধির দাশ (৭২), সুনিল সরকার, লক্ষন সরকার, সুকুমার সরকার, চিনু রানী, দুর্গা রানী,সুবল সরকার সাংবাদিকদের জানান, বহু কষ্ট, দুঃখ করে বাপ দাদাদের পৈতিক পেশাটিকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় বাঁশ ও বেতের অভাব,সরকারী পৃষ্টপোষকতা না থাকার কারনে বেত শিল্পের সাথে জরিত কারিগররা তাদের পৈতিক পেশা টিকিয়ে রাখতে পারছেনা। 

মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্দ জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস ও সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহানুর ইসলাম বলেন, ঐতিহ্যবাহী বঁঅশ ও বেত শিল্পটি আমাদেও আদি সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ৮০/৯০ দশকের বাঁশ ও বেতের প্রচুর চাহিদা ছিল এবং বাঁশ বেতের ঝোপঝার গ্রামাঞ্চলে অনেক চোখে পড়তো। 

বর্তমানে এখন আর সেই বাঁশ ও বেত ঝাড় নেই বলনেই চলে। তবে সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষন ও সহজ শর্তে  ঋণ এবং প্রচুর পরিমানে বাঁশ ও বেত রোপনে ব্যবস্থা করতে হবে। তা  হলেই  ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সাথে জড়িত লোকজনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলে মনে হয়। 





  বিষয়:   বাঁশ ও বেত শিল্প  মানিকগঞ্জ  ঐতিহ্যবাহী শিল্প  কুটির শিল্প  গ্রামীণ অর্থনীতি  বেত শিল্পী  বাঁশ শিল্প  বেতের পণ্য  গ্রামবাংলার ঐতিহ্য  কারুশিল্প 



Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy