
ফাইল ছবি
উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও শিল্পায়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে বগুড়া কেন্দ্রিক নতুন প্রস্তাবিত তিনটি মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বগুড়ার উপর দিয়ে চলাচলকারী উত্তর অঞ্চলগামী এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে প্রস্তাবিত চার লেন সড়ক এবং আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ও কার্গো বিমান সার্ভিস যুক্ত হলে গোটা উত্তরবঙ্গ একটি আধুনিক ইকোনমিক জোনে পরিণত হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো আধা সরকারি (ডিও) চিঠিতে বগুড়া-হিলি, বগুড়া-জয়পুরহাট ও বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীত করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বর্তমানে বগুড়ার উপর দিয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাঞ্চলগামী এশিয়ান হাইওয়ে চলাচল করছে। নতুন প্রস্তাবিত চার লেন মহাসড়কগুলো এই আন্তর্জাতিক সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হলে উত্তরবঙ্গের অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে বগুড়া হয়ে উঠবে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান ট্রানজিট, লজিস্টিক ও বাণিজ্য কেন্দ্র। রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সহজলভ্য হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, বিমানঘাঁটি ও ফ্লাইং একাডেমিতে উন্নীত করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে সমন্বয় করেই গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন সড়ক অবকাঠামো। বিমানবন্দর চালুর পাশাপাশি কার্গো বিমান সার্ভিস চালু হলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।
বিশেষ করে কৃষিপণ্য, সবজি, ফল, দুগ্ধজাত পণ্য ও শিল্পপণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশে রফতানি করা সহজ হবে। সময় সংবেদনশীল পণ্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
হিলি স্থলবন্দর থেকে বিমান কার্গো পর্যন্ত সমন্বিত বাণিজ্য করিডোর:
প্রস্তাবিত মোকামতলা-হিলি চার লেন মহাসড়ক বাস্তবায়িত হলে হিলি স্থলবন্দরভিত্তিক আমদানি-রফতানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কার্গো সার্ভিস যুক্ত হলে সড়ক, স্থলবন্দর ও আকাশপথ মিলিয়ে উত্তরাঞ্চলে একটি সমন্বিত মাল্টিমোডাল বাণিজ্য করিডোর গড়ে উঠবে।
ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহতাব আজমাঈন রিয়াদ বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গে নতুন শিল্পাঞ্চল, রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা (ইপিজেড), কোল্ড স্টোরেজ, গুদামজাতকরণ কেন্দ্র, ট্রান্সপোর্ট হাব ও লজিস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
উত্তরাঞ্চল দেশের প্রধান কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হওয়ায় উন্নত মহাসড়ক ও কার্গো সুবিধা কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ধান, আলু, ভুট্টা, আম, সবজি ও মৎস্যপণ্য দ্রুত পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতেও উৎসাহ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, আধুনিক সড়ক যোগাযোগ, এশিয়ান হাইওয়ে সংযোগ, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কার্গো সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর হলে বগুড়া কেন্দ্রিক উত্তরাঞ্চল দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হবে।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে নতুন মাইলফলক:
পরিকল্পনাবিদ ও ব্যবসায়ী মহলের ধারণা, এই সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর মধ্যে যাতায়াত সময় কমবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং নতুন নগরায়ণের পথ তৈরি হবে। দীর্ঘদিনের অবহেলিত উত্তরাঞ্চল তখন শুধু কৃষিনির্ভর অঞ্চল নয়, বরং আধুনিক শিল্প, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগনির্ভর একটি শক্তিশালী ইকোনমিক জোন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।