প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৪:২৬ পিএম (ভিজিট : ৫০)

X
অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাবা
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে ধর্ষণ চেষ্টার পর গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বেয়াইর বিরুদ্ধে।
নিহত গৃহবধূর নাম লাকি আক্তার(৩৮), তিনি কাঞ্চনগর ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের কালা পাইন্নে এলাকার আব্দুল কাদেরের স্ত্রী এবং তিন ছেলে ও এক মেয়ের জননী। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক বেয়াই মোহাম্মদ সাবা-কে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কালা পাইন্নে এলাকায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাবা তাঁর বেয়াইন লাকি আক্তারকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে লাকি আক্তার বাড়ির অদূরে বিলে গরু চড়িয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। নির্জন স্থানে তাঁকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে লাকি আক্তার রাজি না হয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে সাবা তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহটি পাশের একটি নির্জন বাঁশঝাড়ের ভেতর লুকিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার সকালে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
সন্ধ্যা হয়ে গেলেও লাকি আক্তার গরু নিয়ে ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাঁশঝাড়ের ভেতর তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকাবাসী জড়ো হয়। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাবা-কে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
বাড়ির সর্দার মোহাম্মদ ইউনুস ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, "ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মোহাম্মদ সাবা আমাদের কাছে স্বীকার করেছে যে, সে নিজেই লাকি আকতারকে ধর্ষণ চেষ্টার পর গলা টিপে হত্যা করেছে। এমন জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।"
মেয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন নিহতের পিতা আবুল বশর। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, "আমার মেয়েকে পশুর মতো ধর্ষণচেষ্টা করে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। খুনি মোহাম্মদ সাবার যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়।"
নিহতের ননদ আরাফা খাতুন বলেন- সাবা মাঝে মধ্যে লাকি আকতারের বাড়িতে এসে বিরক্ত করতো। তাকে না আসার জন্য অনেকবার বলা হয়েছে। সুযোগ পেয়ে লাকি আকতারকে সে মেরে পেলেছে।
এদিকে, আব্দুল কাদেরের চার সন্তান তাঁদের মাকে হারিয়ে এখন দিশেহারা। সন্তানদের কান্না আর আহাজারিতে কালা পাইন্নে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘাতক সাবার সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবি তুলেছেন।
ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান জানিয়েছে, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।