প্রকাশ: রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:১৭ এএম (ভিজিট : ৭৯)

X
শার্শায় পরকীয়ার জেরে যুবক খুন, গোয়ালঘরের মাটির নিচে মিলল মরদেহ
যশোরের শার্শা উপজেলায় পরকীয়া সম্পর্ক ও টাকা-পয়সার বিরোধকে কেন্দ্র করে ইক্রামুল কবির (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটন করেছে পুলিশ।
শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বসতপুর পূর্বপাড়া গ্রামে পুলিশের অভিযানে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের এক মাস পাঁচদিন পর অভিযুক্ত গৃহবধূর বাড়ির গোয়ালঘরের মেঝের নিচ থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত ইকরামুল কবির শার্শা উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আলফুরাদের স্ত্রী মুন্নী বেগমের (২২) সঙ্গে ইকরামুলের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক মাস পাঁচদিন আগে পাওনা টাকা আনতে প্রেমিকা মুন্নীর বাড়িতে যান ইকরামুল। এরপর থেকেই তিনি রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিনেও ইকরামুলের সন্ধান না মেলায় পরিবারের সন্দেহ ঘনীভূত হলে পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত মুন্নীর স্বামী আলফুরাদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বসতপুর গ্রামের ওই বাড়িতে অভিযান চালায়।
অভিযানকালে গোয়ালঘরের মেঝে খনন করে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ইক্রামুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। দীর্ঘদিন পর মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়া সম্পর্কের জটিলতা ও পাওনা টাকার বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ইকরামুলকে হত্যা করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ড গোপন করতে মরদেহ গোয়ালঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। তাকে শ্বাসরোধ অথবা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আলফুরাদ ও তার স্ত্রী মুন্নী বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান,মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয়রা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।