নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাঠাও গত এক দশক ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঠাও শুরু করেছে একটি ব্যতিক্রমী রোড সেফটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন “Safe থাকি, Safe রাখি”।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দৈনন্দিন যাতায়াতের ভুলগুলো, যেমন হেলমেট ব্যবহারে অনীহা, ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করা বা যানবাহনের ফিটনেস উপেক্ষা করার মতো বিষয়গুলো সৃজনশীল কার্টুন ও আর্টওয়ার্কের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে।
এই ক্যাম্পেইনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর বিচারক প্যানেল। দেশের প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট আহসান হাবিব, মোরশেদ মিশু এবং সৈয়দ রাশাদ ইমাম তন্ময় এই প্রতিযোগিতার বিচারকার্য পরিচালনা করবেন। তরুণ ও প্রতিভাবান শিল্পীদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ। কার্টুন বা আর্টওয়ার্কের মাধ্যমে হেলমেট না পরার ঝুঁকি, অনিরাপদ ড্রাইভিং এবং এরকম সচেতন অভ্যাসগুলো কীভাবে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে পারে, তা ফুটিয়ে তোলাই হবে এই ক্যাম্পেইনের মূল বিষয়বস্তু। শিল্পীদের আর্টওয়ার্কে বুদ্ধিমত্তার সাথে পাঠাও-এর উপস্থিতিও থাকতে হবে।
অংশগ্রহণকারীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ঘোষণাও করেছে পাঠাও। বিচারক প্যানেলের রায়ে প্রথম বিজয়ী পাবেন ৫০হাজার টাকা ও ক্রেস্ট, দ্বিতীয় বিজয়ী ২৫হাজার টাকা ও ক্রেস্ট এবং তৃতীয় বিজয়ী ১৫হাজার টাকা ও ক্রেস্ট। এছাড়া চতুর্থ স্থান অধিকারী আরও ৬ জন শিল্পীর প্রত্যেকে পাবেন সার্টিফিকেটসহ ৫হাজার টাকা করে। শুধুমাত্র অর্থ পুরস্কারই নয়, বাছাইকৃত সেরা কার্টুনগুলো পাঠাও আয়োজিত প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হবে এবং পাঠাও-এর বার্ষিক ক্যালেন্ডারেও স্থান পাওয়ার সুযোগ থাকবে। বিজয়ীদের নাম পাঠাও-এর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করা হবে।
আর্টওয়ার্ক তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। অংশগ্রহণকারীরা ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট, বাই-কালার বা ফুল-কালার ফরম্যাটে ট্র্যাডিশনাল বা ডিজিটাল মাধ্যমে আর্টওয়ার্ক জমা দিতে পারবেন। তবে কোনোভাবেই AI-জেনারেটেড বা কপি করা কাজ গ্রহণযোগ্য হবে না। ডিজিটাল ফাইলের ক্ষেত্রে ৩০০ DPI রেজুলেশনে JPEG ও PSD ফাইল (টেক্সট ও বাবল আলাদা লেয়ারে) গুগল ড্রাইভ ফোল্ডারে জমা দিতে হবে। ট্র্যাডিশনাল আর্টওয়ার্কের ক্ষেত্রে ৩০০ DPI রেজুলেশনে A3 পেইজে ১২”×১৮” ইঞ্চি সাইজে স্ক্যান কপি পাঠাতে হবে। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উসকানিমূলক কোনো কাজ গ্রহণ করা হবে না।
আগ্রহী শিল্পীদের আগামী ২০ মে, ২০২৬-এর মধ্যে তাদের কাজগুলো জমা দিতে হবে। সাবমিশনের জন্য নির্ধারিত গুগল ফর্ম
https://forms.gle/7PG21vo3EFMEqJbA6 অথবা
[email protected] এই ইমেইল ঠিকানাটি ব্যবহার করা যাবে। ফর্মে আর্টিস্টের নাম, ফোন নম্বর এবং সোশ্যাল মিডিয়া লিংক প্রদান করতে হবে। এছাড়া অংশগ্রহণের অংশ হিসেবে নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে
#কার্টুনপাঠাও এবং
#Safe থাকি
Safe রাখি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে কাজটি শেয়ার করতে হবে। পাঠাও বিশ্বাস করে, এই সৃজনশীল ক্যাম্পেইনটি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।
এছাড়াও রোড সেফটি নিয়ে আরও সচেতন করার লক্ষ্যে পাঠাও বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্কশপ শুরু করেছে। এই ওয়ার্কশপে ইতোমধ্যেই পাঠাও-এর সাথে যুক্ত হয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক-সহ বেশ কিছু ইউনিভার্সিটি ও স্কুল-কলেজ। এরই সাথে আয়োজন করা হচ্ছে কার্টুন পিপল-এর সাথে একটি বিশেষ ওয়ার্কশপ, যেখানে বিভিন্ন কার্টুনিস্ট একসাথে হয়ে আর্টের মাধ্যমে রোড সেফটির ব্যাপারে সাধারণ জনগণকে সচেতন করবেন।
২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পাঠাও এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যা অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সবার দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাইডশেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি এবং ই-কমার্স লজিস্টিকসে পাঠাও শীর্ষস্থানে রয়েছে। ১৫ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী, ৪ লক্ষ পাঠাও হিরো ও ডেলিভারি এজেন্ট, ২লক্ষ মার্চেন্ট এবং ১৫হাজার রেস্টুরেন্ট নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে পাঠাও। প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশে ৬লক্ষ-এরও বেশি কাজের সুযোগ তৈরি করেছে, যা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।